প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:০২ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৬ পিএম
প্রার্থিতা বাতিল হওয়া মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। ফাইল ফটো
নির্বাচনে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ বা প্রার্থিতা বাতিল করা হবে– নির্বাচন কমিশন আগেই একাধিকবার সতর্ক করেছিল। ভোটের আগের দিনও প্রার্থীদের উদ্দেশে একই হুঁশিয়ারিবার্তা দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। পরদিন ভোটগ্রহণ চলাকালে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। রবিবার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইসি; যা আগে কোনো নির্বাচনে ঘটেনি।
বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো। রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ২৯৯ আসনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ২৮টি দল। দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪ জন, স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনে পরে ভোটগ্রহণ হবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের জানান, একাধিকবার আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় আজ বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন কমিশন সর্বসস্মতিক্রমে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরে ইসির উপসচিব (আইন) মো. আব্দুছ ছালাম সই করা এক চিঠিতে বলা হয়, ২৯৩ চট্টগ্রাম সংসদীয় ১৬ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ৭৩ ও ৮৪-এ ধারায় নির্বাচনী অপরাধ সংঘটন করেছেন জানিয়ে চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধ সংঘটন প্রমাণিত হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ৯১-ই অনুচ্ছেদের উপধারা (২)-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বহুল আলোচিত ৯১-ই অনুচ্ছেদের বিধান ব্যবহার করেছে কাজী হাবিবুল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের চার দিন আগে ২ জানুয়ারি এই বিধান প্রয়োগ করে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমানের পবনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়বার এই বিধান প্রয়োগ করে ভোট চলাকালে চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হলো।
ইসি সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ চলমান থাকা অবস্থায় প্রার্থিতা বাতিল করা হলে ওই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট গণনা করা হবে না। ফলে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রাপ্ত ভোট বাদ দিয়ে অন্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট গণনা করা হবে। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘এর আগে কোনো নির্বাচনে ভোট চলাকালে কারও প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা ঘটেনি। একাধিকবার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটেনি। যখনোই আমরা কোনো তথ্য পেয়েছি, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জালভোটসহ নানা অনিয়মের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’