প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৫৬ পিএম
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। বাংলা, বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে র্যালিটি বের হয়ে গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়। ‘ভোট উৎসবের জন্য’, ‘নৌকার জন্য’, ‘স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য’, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য’ স্লোগানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে দলটি। শোভাযাত্রায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ ঢাকা মহানগর ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গার নেতারা যোগ দেয়।
এছাড়া দিবসকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ছিল নানা আয়োজন। দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল 'স্মার্ট বাংলাদেশ, উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান'। এর আগে সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিন শুরু করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
নাটোরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উত্তেজনা, গুলি
দিবসটিকে কেন্দ্র করে উৎসব পালনের সময় নাটোরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজসহ অন্তত ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা নাটোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিৎিসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শহরের কান্দিভিটুয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছিল জেলা ছাত্রলীগের একাংশ। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শাহীনসহ তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবশে করতে চাইলে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তারা। উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তিন রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় তিনজন আহতের কথা স্বীকার করেছেন নাটোর ওসি মিজানুর রহমান।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শাহীন জানান, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আমরা পার্টি অফিসে যাই। এ সময় ছাত্রলীগের নামধারী সন্ত্রাসীরা অর্তকিত হামলা করে। এতে সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন। আমাদের দাবি পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
ওসি মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।