× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফিরে দেখা : ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রশাসন

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:১১ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিদায়ি ২০২৩ সালের বড় একটা সময়জুড়ে দেশের অনেক ক্ষেত্রেই নানাভাবে প্রভাব ফেলেছে জাতীয় নির্বাচনের ইস্যু। নতুন বছরের অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরব ছিল ২০২৩-এর অনেকটা সময়। আর সবকিছু ছাপিয়ে সামনে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির প্রসঙ্গ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক উপায়ে সম্পন্ন করার পথে যে বা যারা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। এর বাইরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশটির নিষেধাজ্ঞা ছিল বিদায়ি বছরের শেষদিকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। আর এর প্রভাব লক্ষণীয় হয়ে ওঠে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। বিষয়টি প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যাদের সন্তান বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পড়াশোনা করছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা যারা নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় তারা অস্বস্তিতে রয়েছেন। ভিসা নীতির পরও যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়ানোর সুযোগ পাবে। 

নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বেশি থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে বলে জানা গেছে। যারা নির্বাচনী দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন কর্মকর্তাদের অবশ্য এ নিয়ে দুশ্চিন্তাও কম। অবশ্য মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগলেও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে চান না প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি অংশ। বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখতে চান না তারা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৪ মাস সময় নিয়েছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে ৮৬ জন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে ২৯ জনের সন্তান বিদেশে পড়াশোনা করছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া সরকার মাঠ পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তাদের সন্তানদের বিষয়েও তথ্য নিয়েছে।

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ২৪ মে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেবে না দেশটি। গত ২২ সেপ্টেম্বর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, বিরোধী দল, সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, জুডিসিয়ারি ও সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্যরা ভিসা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবেন। 

কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গত দুটি জাতীয় নির্বাচনকে বিবেচনায় নিলে দেশের বহু সরকারি কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডিসিরা এখন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা। অনেকে অবসরে চলে গেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডিসিরা এখন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের পদে রয়েছেন, যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অতীতে গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে ক্ষুণ্ন করার জন্য কাজ করেছেনÑ এমন অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রভাব ফেলবে না। এই নীতি আগামী দিনের জন্য, যার অর্থ আমরা আশা করছি যে এই নীতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে। কিন্তু ডোনাল্ড লুর এই বক্তব্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের খুব একটা স্বস্তি দেয়নি, কারণ সর্বশেষ স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর ভিসানীতি আরোপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয় কি নাÑ তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন কয়েক কর্মকর্তা। তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো প্রায় অর্ধেক পরিচালিত হয় ইউরোপীয় দেশগুলোতে। যদি ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেগুলো অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানেন যে, বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হলে তারা সমস্যায় পড়বেন। এই কর্মকর্তারা সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এই কর্মকর্তাদের নিজস্ব এক্সিট প্ল্যান আছে এবং তারা তাদের মতো করে দায়িত্ব পালন করবেন। 

ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। মার্কিন ভিসানীতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের ব্যাপারে অ্যাপ্লাই করা হয়েছে। যদি ভিসানীতি আসে, তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র যেতে পারবেন না। আইনের আওতায় থেকে পুলিশ কাজ করে এবং ভিসানীতি এই বাহিনীর কর্মক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন ওই সময় বলেছিলেন, আমেরিকার ভিসানীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা কাকে ভিসা দেবে, কাকে দেবে নাÑ সেটা তাদের নিজস্ব এখতিয়ার। আমরা সংবিধান অনুযায়ী দেশ চালাব। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। প্রশাসনের অনেকেই অবশ্য মনে করেন, ভিসা বিধিনিষেধ নির্দিষ্ট কিছু সিনিয়র কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্র আগেই আমাদের সতর্ক করেছে। তারা মে মাসের ২৪ তারিখ ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। আসলে তখন থেকেই তারা কাজ শুরু করেছে। কে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে তার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তারা ব্যবস্থাও নিতে পারে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা