প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:০০ এএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েকজন প্রার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিসসহ সমর্থকদের গ্রেপ্তার ও জরিমানা করা হয়েছে।
নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নাদিম মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার ড. বদিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের নির্বাচনী সভায় নাদিম মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম খান বীরু পক্ষে যারা কাজ করবেন তাদের অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুমকি দেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনার ভিডিও নির্বাচন কমিশনের নজরে এলে জেলা রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে মনোহরদীর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাসিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। মামলার পর নিজ বাসা হতে নাদিম মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে পাবনা-১ আসনে নৌকা প্রার্থী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) ইকরামুল কবির। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি ও বে-সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন তিনি। আগামী ২ কর্ম দিবসের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
এ ছাড়াও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনির ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। দুই প্রার্থীই ভিন্ন দুটি ঘটনায় একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, গোপালপুর-ভূঞাপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছোট মনির ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তলব করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লার হোমনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মাঝে উপঢৌকন/অনুদান বিতরণ করার দায়ে শাহ পরান এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করার দায়ে মানিক মিয়া, উভয়কে পাঁচ হাজার করে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইউসুফ হাসান। এ সময় তিনি বলেন, উভয় ব্যক্তি নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ করে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়াও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়রকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার মণিরামপুর-চুকনগর সড়কে যানজট সৃষ্টি ও মোটরসাইকেলে নির্বাচনী শো-ডাউন করায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলী হাসান বলেন, মঙ্গলবার যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের নৌকা প্রতীকের এমপি প্রার্থী (প্রতিমন্ত্রী) স্বপন ভট্টাচার্য্য-এর নির্বাচনী মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউন করা হয় রাস্তাজুড়ে। এই সময় মণিরামপুর-চুকনগর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করায় মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।