প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০১ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:১০ পিএম
প্রবা ফটো
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বিজিবির ওপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করার আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাজমুল হাসান বলেছেন, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের স্থানীয় ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশ্বস্ততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিজিবি আজ দেশবাসীর আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবস-২০২৩' উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দরবারে সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
মহাপরিচালক বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বিজিবির প্রতিটি সদস্যকে সুশৃঙ্খল ও স্মার্ট সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে।
এর আগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ দিনটিকে বিজিবি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিজিবি দিবস উদযাপন উপলক্ষে ফজরের নামাজের পর পিলখানাসহ সারা দেশে বিজিবির সব ইউনিটের মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় বিজিবি মহাপরিচালক বিজিবির রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পিলখানায় ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বেলা পৌনে ১১টায় পিলখানায় সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে বিজিবি মহাপরিচালক বিজিবি সদস্যদের বিশেষ দরবার গ্রহণ করেন। দরবার শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজনকে অনারারি সুবেদার মেজর থেকে অনারারি সহকারী পরিচালক এবং দুজনকে অনারারি সহকারী পরিচালক থেকে অনারারি উপপরিচালক পদে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।
দরবারে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যমণ্ডিত এই বাহিনী আজ ২২৯ বছরে পদার্পণ করল। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এ বাহিনী ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, নারী-শিশু ও মাদক পাচার রোধসহ যেকোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। স্বাধীনতার পর দেশ গঠন এবং দেশমাতৃকার সেবায় এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ যেকোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে জনগণের সেবায় তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে।
বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল, পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অত্যাধুনিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ২০১০ সালে বাহিনী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কমান্ড স্তর বিকেন্দ্রীকরণ করে নতুন নতুন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও বিওপি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। উন্নয়নের ক্রমধারায় ৭৩টি আধুনিক কম্পোজিট বিওপি নির্মাণ এবং হেলিকপ্টার, এপিসি, এটিভি, এয়ার বোটসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংযোজনের মাধ্যমে বিজিবি একটি বিশ্বমানের আধুনিক ত্রিমাত্রিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে জল, স্থল ও আকাশপথে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
বিজিবির ডিজি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম বিওপিসমূহকে যোগাযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজিবির রিক্রুটিং ব্যবস্থাকে ই-রিক্রুটিংয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রশিক্ষণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চুয়াডাঙ্গায় অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত আরও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিজিবি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে সৈনিকদের বেতন স্কেল সমন্বয়, সীমান্ত ভাতা বৃদ্ধি, রেশন ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধিসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।