নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২২ ১৭:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা-নারীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বাধা। বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন নারী সহিংসতার শিকার। এটা কোনো দেশের একক সমস্যা না। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। পুরুষতান্ত্রিক মন-মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে। এ সহিংসতা রোধে নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইনগুলোকে সংস্কার করতে হবে এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মঙ্গলবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক নারী সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত, সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এই লক্ষ্যে সরকার পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন, যৌতুক নিরোধ আইন, ডিএনএ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২০ প্রণয়ন করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন বিচার ট্রাইবুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় নারীদের নিরাপত্তার জন্য সাইবার সিকিউরিটি ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। সংশোধিত শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদন্ড’ করা হয়েছে। আইনের কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত হচ্ছে।
নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০২২ বিষয়ক জাতীয় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনার নারদিয়া সিম্পল আরো উপস্থিত ছিলেন রিসার্স ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, জেন্ডার স্পেশালিস্ট শীপা হাফিজা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক তৌফিক ইসলাম শাতিল, ইউএনওমেন ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়া নন্দা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করেন। বিএনপি সরকার ২০০১ সালে সেই নারী নীতি বাতিল করে। কারণ আপনারা জানেন, বিএনপি জামাত কখনও চাই না এ দেশের নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০১১ সালে পুনরায় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর নারীরা জাতি সংঘের শান্তি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। আজকের এ জাতীয় সংলাপ আমাদের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুদ্ধ ও সংঘাতময় বিশ্ব পরিস্থিতিতে নারীকে অবর্ণনীয় সংকটের মোকাবিলা করতে হয়। তার প্রতিবিধানে ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার ৪২১৩তম অধিবেশনে রেজুলেশন ১৩২৫ গ্রহণ করে। যার উদ্দেশ্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সকল নীতিমালা তৈরি, বিশ্লেষণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্তকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই কর্মপরিকল্পনার আলোকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে কোনো সংঘাত ও দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে, নারীর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইন, নীতি, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।