প্রবা প্রতিবেদক ও সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৩৭ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:৪২ পিএম
সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রে তেল পাওয়ার কথা জানিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ছবি : সংগৃহীত
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের (এসজিএফএল) হরিপুররের গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই কূপে খননের সময় গ্যাসের পাশাপাশি তেলেরও উপস্থিতি পেয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এখান থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল হারে তেল উত্তোলন করা যাবে। রবিবার (১০ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসজিএফএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
এ ছাড়া রবিবার সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে। তেলের মজুদের তথ্য জানতে আরও অন্তত চার থেকে পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া ওই কূপের তিনটি স্তরে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। দুই মাস আগে এ কূপ খনন শুরু হয়।
নসরুল হামিদ বলেন, প্রথম দিন দুই ঘণ্টায় ৭০ ব্যারেল তেল উঠেছে। আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। আশা করা যাচ্ছে ২০ বছর এখান থেকে সুফল পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে সিলেট খনি থেকে উত্তোলিত তেল পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এসজিএফএল কর্তৃপক্ষ জানায়, সিলেট ১০ নম্বর কূপে ২ হাজার ৫৭৬ মিটার গভীরতায় খনন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ওই কূপে ৪টি স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। নীচের স্তরটি ২ হাজার ৫৪০ থেকে ২ হাজার ৫৫০ মিটার টেস্ট করে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া যায় এবং ফ্লোয়িং প্রেসার ৩ হাজার ২৫০ পিএসআই। মজুদের পরিমাণ ৪৩-১০০ বিলিয়ন ঘনফুট। ২ হাজার ৪৬০ থেকে ২ হাজার ৪৭৫ মিটারে আরও একটি ভালো গ্যাস-স্তর পাওয়া যায়, সেখানে টেস্ট করলে ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
এ ছাড়া ২ হাজার ২৯০ থেকে ২ হাজার ৩১০ মিটারে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায় জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ১ হাজার ৩৯৭ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় আরও একটি জোন পাওয়া যায়। ওই জোনে ৮ ডিসেম্বর টেস্ট করে তেলের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ, যার প্রাথমিকভাবে এপিআই গ্রাভিটি ২৯.৭ ডিগ্রি। সেলফ প্রেসারে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল তেলের প্রবাহ পাওয়া যায়। পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তেলের সঠিক মজুদ জানা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২ হাজার ৫৪০ এবং ২ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতায় একযোগে উৎপাদন করা হলে প্রায় ৮-১০ বছর সাসটেইন করবে এবং গড় মূল্য হিসেবে এর মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যদি ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে উৎপাদন করা হয়, তাহলে ১৫ বছরের অধিক সাসটেইন করবে।
এসজিএফএল সূত্র জানায়, জ্বালানী সংকট নিরসনে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে ৪৬টি কূপ অনুসন্ধান, খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের মধ্যে কূপগুলোর খননকাজ শেষ হওয়ার কথা। অনুসন্ধান ও খনন কাজ শেষে কূপগুলো থেকে ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসজিএফএল’র মালিকানাধীন ১৪টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ৩টি কূপের কাজ শেষ করে গত বছর থেকে উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত ২ নম্বর কূপে আরও ৫৩ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পায়। এক সপ্তাহ পর ২২ নভেম্বর থেকে পরিত্যক্ত ওই কূপ থেকে আবার উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া উৎপাদনে যাওয়া অন্যান্য কূপগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট-৮, কৈলাশটিলা-৭ ও বিয়ানীবাজার-১। এ তিনটি কূপ থেকে দৈনিক ১৬ থেকে ১৮ মিলিনয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই তিনটি মিলে বর্তমানে এসজিএফএল’র আওতাধীন ১৩টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। এগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৯৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
তেল উত্তোলনের বিষয়ে এসজিএফএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তেল উৎপাদনে যেতে ৬-৮ মাস সময় লাগতে পারে।
১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর আবিষ্কৃত হতে থাকে একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র। বর্তমানে এসজিএফএল’র আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। সেগুলো হলো- হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।