× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যাচাইয়ে বাদ পড়েছেন হেভিওয়েটরাও

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৩০ এএম

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:১৫ পিএম

যাচাইয়ে বাদ পড়েছেন হেভিওয়েটরাও

রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাইয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকজন আলোচিত প্রার্থীর। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন, নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণ, কক্সবাজার-১ আসনের সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের নাসিরুল ইসলাম খানও রয়েছেন বাদ পড়াদের তালিকায়।

তবে ঝালকাঠি-১ ও কক্সবাজার-১ আসনে বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে বিএনপি ছেড়ে নৌকার প্রার্থী হওয়া ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এবং বিএনপির জোট ছেড়ে আসা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থী হিসেবে বহাল রয়েছেন। কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় গতকাল রবিবার বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আজ সোমবার।

যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে একই দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, সিলেট-২ আসনে গণফোরাম নেতা ও সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। বাদ পড়া আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি, সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ঝালকাঠি-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আবুল কাশেম ফখরুল ইসলাম। এ ছাড়া মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের নেতা শফী আহমেদসহ নেত্রকোণায় ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজের কার্যালয়ে নেত্রকোণার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। মোট ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের পর ৭ জন স্বতন্ত্রসহ ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন নেত্রকোণা-৫ ও শফী আহমেদ নেত্রকোণা-৪ আসনের প্রার্থী ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে যারা আগে কখনও সংসদ সদস্য ছিলেন না তাদের অনেকে বাদ পড়েছেন ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ত্রুটিপূর্ণ, খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংসদীয় এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে স্বাক্ষর করা ১০ জন ভোটারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তারা স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা জানতে চান। এই ১০ জনের মধ্যে কেউ স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করতে পারেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের স্ত্রী শাহনেওয়াজ আয়েশা আখতারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র জমা দিতে না পারা, হলফনামায় সম্পদের হিসাব ও আয়কর রিটার্ন অথবা এ-সংক্রান্ত জরিমানার অর্থ জমা না দেওয়াসহ অন্যান্য কারণেও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। 

আজ মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন। গত শুক্রবার থেকে নির্বাচনের এই পর্বটি শুরু হয়। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শনিবার (৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ইসিতে আপিল করা যাবে। কমিশন ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আপিল নিষ্পত্তি করবে। 

শাহজাহান ওমরের মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল বজলুলের

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের আলোচিত প্রার্থী বিএনপির সাবেক নেতা মেজর (অব.) শাহজাহান ওমরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেও শেষ পর্যন্ত দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় বাতিল হয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের প্রার্থিতা।

গতকাল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ঝালকাঠির দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারাহ গুল নিঝুম দুটি আসনের সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেন। মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে আটজনের।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন নৌকার প্রার্থী শাহজাহান ওমর। বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর প্রথমবারের মতো তিনি গতকাল ঝালকাঠিতে যান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে দেখা গেছে।

ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায় আরও আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম মনিরুজ্জামান মনির, কৃষি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (স্বতন্ত্র), জাতীয় পার্টির মো. এজাজুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আলম, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আবুল কাশেম ফখরুল ইসলাম। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির মো. নাসির উদ্দিনের। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কক্সবাজার–১ আসনে কল্যাণ পার্টির ইবরাহিমের মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর 

ঋণখেলাপি হওয়ায় কক্সবাজার-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে বাছাইয়ে প্রার্থিতা বহাল রয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের। আসনটিতে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেনÑ বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের জাফর আলম ও তার ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিন । দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

নোয়াখালীতে আ.লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল 

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, ঋণখেলাপি হওয়ায় রশিদ কিরনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে কিরন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ হালনাগাদ করা আছে। সব কাগজপত্র দেওয়ার পরও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল করেছেন। তিনি আপিল করবেন।

এ আসনে বৈধ প্রার্থী হলেন- জাকের পার্টির মো. বাহার উদ্দিন, স্বতন্ত্র মিনহাজ আহমেদ, ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, মো. সুমন আল হোসাইন ভূঁইয়া। বিভিন্ন কারণে তিনজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আক্তার হোসেন ফয়সাল, জাতীয় পার্টির ফজলে এলাহী সোহাগ ও সাম্যবাদী দলের মহিউদ্দিন।

জাপা মহাসচিবের আসনে আ.লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল 

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মুজিবুল হক চুন্নুকে আসনটি ছেড়ে দেয় এবং তিনি বিজয়ী হন।

চট্টগ্রামে দিদারুলের মনোনয়নপত্র বাতিল

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন; যদিও দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন তিনি পাননি। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এস এম আল মামুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দুটি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনে দিদারুল আলমসহ চারজনের এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও আওয়ামী লীগের এম এ সালামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিকল্পধারার মান্নান ও মাহীর মনোনয়নপত্র বাতিল

ঋণখোলাপির অভিযোগে নোয়াখালী-৪ আসন থেকে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে মাহী বি চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, আওয়ামী লীগের মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, তৃণমূল বিএনপির অন্তরা সেলিমা হুদা, জাতীয় পার্টির শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জাকের পার্টির আতাউর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতাউল্লাহ হাফেজী প্রমুখের। মুন্সীগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার মো. আবু জাফর রিপন বলেন, মাহী বি চৌধুরী একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের জামিনদার ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। যে কারণে মাহীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগেই নোয়াখালী-৪ আসনে আবদুল মান্নানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ওই আসনের ৯ প্রার্থীর মধ্যে মেজর (অব.) মান্নানসহ ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। 

মানিকগঞ্জে জাতীয় পার্টির সব প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বাতিল

মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের একটিতেও জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়নি। এর মধ্যে দুজন ঋণখেলাপির দায়ে এবং একজনের গ্যাস বিল বকেয়া থাকার কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রেহেনা আক্তার। ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জহিরুল আলম রুবেলের। অন্যদিকে বাড়ির গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মানিকগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাসান সাঈদের।

ডিআইজির ভাইয়ের মনোনয়ন বাতিল 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামের ভাই সৈয়দ নজরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ভোটার তালিকায় একজন মৃত ভোটারের স্বাক্ষর থাকায় গতকাল বাছাই কার্যক্রমে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন জানান, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে মোট ভোটারের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম দৈবচয়নের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে একজন ভোটারকে মৃত পায়। অথচ মনোনয়নপত্রে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। বিষয়টি আইন পরিপন্থি। তাই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করতে ষড়যন্ত্র করে এমন কাজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।’

পঙ্কজ-শাম্মী-সাদিকের মনোনয়ন স্থগিত 

বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশালের হেভিওয়েট তিন প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ, সাদিক সেরনিয়াবাত আবদুল্লাহ ও শাম্মী আহমেদের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। 

গতকাল তিনি জানান, বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। সোমবার যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিন শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। 

বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মনোনয়নপত্রে যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি থাকার বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করা হয়। এ কারণে তার মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা