× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিন জেলাকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার দাবি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ২০:১৩ পিএম

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ২১:২৪ পিএম

ছবি : প্রবা

ছবি : প্রবা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ বেড়েছে উপকূলীয় এলাকায়। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের তুলনায় ২০০০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে উপকূলীয় জেলাগুলোয় দুর্যোগ বেড়েছে ১০ গুণের বেশি। আবার ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের তথ্য মতে, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ১৪টি শহরের তালিকায় বেশির ভাগ খুলনা বিভাগের। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস, আম্ফান, বুলবুল, ফণী, মোরা, রোয়ানু, আইলা, সিডরসহ সব ঘূর্ণিঝড়ে বড় ক্ষতি হয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার। এই তিন জেলাকে জলবায়ু বা দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে বিশেষ কর্মকৌশল প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ সদস্য ক্লাবে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে এমন দাবি জানিয়েছেন ওই তিন জেলার মানুষজন। জার্মানির দাতা সংস্থা ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের আর্থিক সহযোগিতায় এই সংলাপ আয়োজন করে লিডার্স নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

সংলাপে বক্তারা বলেন, আগামী শতকের শুরুতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটারে পৌঁছাবে। ফলে ৮৩৪ বর্গকিলোমিটারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হবে। গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় থাকবে ১০ মিলিয়ন মানুষ। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা গত ৩৫ বছরে ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। এই সংকটের মূল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে উপকূলের নারীদের স্বাস্থ্যে। এই নারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ মাসিক সমস্যায়, ৩০ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রস্রাবের সংক্রমণে এবং ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ জরায়ুর সংক্রমণে আক্রান্ত। গত মে মাসে পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য উঠে আসে বলে জানায় লিডার্স। 

এর বাইরে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনার উপকূলীয় উপজেলাগুলোয় প্রতিবছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে প্রতিটি পরিবার। ২০২০ সালে পরিচালিত এক সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে লিডার্স জানায়, বিগত ১৬ বছরে দুর্যোগে প্রতিটি পরিবারের বার্ষিক গড়ে ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪৮৯ টাকা। এসব জেলার ৭৩ শতাংশ পরিবার সুপেয় পানির অভাব বোধ করে। এই পরিবারগুলো নিজ এলাকা থেকে বহু দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে। আবার কোনো কোনো পরিবার খারাপ পানি খেতে বাধ্য হয়। সুপেয় পানির অভাব, কৃষিতে ক্ষতি এবং স্থানীয়ভাবে আয়রোজগারের ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার দাকোপ এবং পাইকগাছায় অভিবাসনে বাধ্য হয় পুরুষরা। ফলে ওইসব উপজেলায় এখন নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা অনেক কম।

বক্তারা আরও বলেন, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে জলবায়ু ও দুর্যোগের এত নেতিবাচক প্রভাবের পরও আলাদাভাবে বরাদ্দ থাকে না সরকারের। এমনকি সরকারের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের বরাদ্দও সন্তোষজনক নয়। জলবায়ু তহবিলের বরাদ্দ বা প্রকল্প সবচেয়ে বেশি গেছে বরিশালে ও চট্টগ্রামে। আর খুলনা বিভাগ বরাদ্দের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আবার সুপেয় পানি নিশ্চিত করার জন্য ওই তিন জেলায় একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় সেগুলোর কাজ শেষ হয়নি। ফলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনাবাসী। আনিসুর রহমান নামে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তি বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ এমনিতেই কম দেওয়া হয়। আবার যা বরাদ্দ দেওয়া হয় তারও সঠিক ব্যবহার হয় না। বেড়িবাঁধসহ অন্যান্য কাজের অবস্থা খুব নাজুক।’ 

লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংলাপটিতে। এ ছাড়া সংস্থাটির সমন্বয়ক নিখিল ভদ্রের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং মন্ত্রণালয়টির উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। এ ছাড়া সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার সংলাপে বক্তব্য দেন। 

মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকার উপকূলজুড়ে দুই হাজার ২৭৭ বর্গকিলোমিটার চরে বনায়ন করেছে। এ ছাড়া সুন্দরবন সুরক্ষায় ৫২ শতাংশ এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে সকল ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ, ডলফিন, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় অভয়ারণ্য ঘোষণাসহ বিবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।


প্রবা/টিকে/এমজে

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা