× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুধু তহবিল নয়, জলবায়ুর ন্যায়বিচার চায় বিশ্ব

আমিনুল ইসলাম মিঠু, দুবাই থেকে

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:৩৩ পিএম

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ০০:২৮ এএম

শুধু তহবিল নয়, জলবায়ুর ন্যায়বিচার চায় বিশ্ব

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের এক্সপো ২০২০ সিটিতে চলমান জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৮) শুরুই হয়েছে তহবিল গঠনের অঙ্গীকার দিয়ে। সম্মেলনের প্রথম দিন থেকে শুরু করে তৃতীয় দিনেও গুরুত্ব পেয়েছে তহবিলের বিষয়টি। এদিন ছিল লিডার্স সামিটের দ্বিতীয় ও শেষ দিন। একইসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির তহবিল পূরণ হলেও জলবায়ুকে সুরক্ষিত রাখার দিকটি অবহেলিত রয়ে গেছে বলে মনে করছে জলবায়ু রক্ষায় সোচ্চারকারীরা। তাই জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ না করে উন্নত বিশ্বকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র তহবিলই নয়, জলবায়ুগত ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। 

পরিবেশবাদীরা বলছেন, দুবাই জলবায়ু সম্মেলন শুরুই হয়েছে ‘তহবিল’ বার্তা দিয়ে। তহবিল অবশ্যই জরুরি, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ও দাবি তহবিলের আড়ালে চাপা পড়ে যেতে পারে। জলবায়ু প্রশ্নে এখন পৃথিবীর মানুষ ন্যায্যতার দাবি তুলেছে। তবে সম্মেলনের শুরু থেকে প্রতিদিনই জলবায়ু অর্থায়নের সারিতে যোগ হচ্ছে নতুন দেশ। আর এইসব অর্থায়নের বেশিরভাগই আবার বিনিয়োগ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। অথচ বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দাবি ন্যায্যতার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ। 

সম্মেলন শুরুর পর থেকে শনিবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত প্রায় ৬৫৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষয়ক্ষতির তহবিলে জমার ঘোষণা এসেছে। এর মধ্যে গতকাল সবুজ জলবায়ু অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র তিন বিলিয়ন ডলার, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৫০ মিলিয়ন ডলার, জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অর্থায়নে অঙ্গীকারপূরণে অংশিদারদের সহায়তায় এক বিলিয়ন ডলার তহবিল ঘোষণা করেছে কপ-২৮ প্রেসিডেন্সি। এ ছাড়া  ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তহবিল গঠন ও প্রক্রিয়াকরণে ৪০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস। নবায়ণযোগ্য জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে ১১৮টি রাষ্ট্র।

সম্মেলনে যোগ দেয়া বাংলাদেশের যুবপ্রতিনিধি ইমরান হোসেন বলেন, ঘোষিত জলবায়ু তহবিল যথেষ্ট না এবং এই ফান্ড কীভাবে জলবায়ু যুবদের জন্য ব্যবহৃত হবে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।

এদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে সক্রিয় দাবি তুলবে বলে জানা গেছে। বৈশ্বিক স্টকটেক, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, অভিযোজন লক্ষ্যমাত্রা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন তহবিল বাড়ানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ।

জলবায়ু সম্মেলনে দূষণ মোকাবিলায় পারমাণবিক শক্তির তিনগুণ বৃদ্ধি চেয়ে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে ২০টিরও বেশি দেশ। শনিবার ১৩ দিনব্যাপী এই সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ঘোষণাপত্রটিতে স্বাক্ষর করে দেশগুলো। ২০২০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে পারমাণবিক শক্তিবৃদ্ধি চায় তারা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ঘানা, জাপান ও ইউরোপের দেশগুলো ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এ ছাড়া স্বাক্ষরকারী অন্যান্য দেশের মধ্যে আছে যুক্তরাজ্য, বুলগেরিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, ইউক্রেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কার্বনের পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে পারমানবিক শক্তি একটি মূল ভূমিক পালন করে বলে মনে করছে কপ-২৮ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো। সম্মেলনে মার্কিন জলবায়ু বিষয়ক রাষ্ট্রদূত জন কেরি বলেন, শক্তির অন্যান্য সব উৎসের চাইতে এটি অন্যতম বিকল্প হতে চলেছে। তবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনাও সম্ভব নয়। এটি বিজ্ঞানভিত্তিক বাস্তবতা, এতে কোন রাজনীতি বা মতাদর্শ জড়িত নয়।

কপ-২৮ সম্মেলনে অংশ নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার পরিবর্তে শনিবার সম্মেলনে যোগ দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। জলবায়ু তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কামালা হ্যারিস বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা কীভাবে করা যায় তা আজ আমরা কাজের মাধ্যমে প্রদর্শন করছি। একইদিনে তেল ও গ্যাসশিল্পে গ্রিনহাউজ গ্যাসের আরেক উপাদান মিথেন নির্গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জলবায়ু বিষয়ক গবেষক পাভেল পার্থ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত ২৭টি সম্মেলনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্মত হয়েছেন যে ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা, বাসস্থান, চিকিৎসার ব্যয় বেড়েছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলো সে তুলনায় কোন ধরনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখতে পায়নি। প্রতিটি সম্মেলনেই শুধু কথার পিঠে কথা থাকে। সম্মেলন শেষে আরেকটি নতুন সম্মেলনের অপেক্ষায় থাকতে হয় কীভাবে এই একটি পৃথিবীকে আমরা আরও বেশি বাসযোগ্য করে তুলতে পারব। 

সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে এখানে যে শুনানি হচ্ছে তা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় কোনভাবেই তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির ওপর উঠে গেলে তা আমাদের সবার জন্যই ক্ষতিরকারণ। জাতিসংঘের মহাসচিব ২০৩০ সালের মধ্যে সব উন্নত দেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে বলেছেন। আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়তি থাকবে। তবে কী কী উপায়ে আমরা এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ‍রোধে একসঙ্গে কাজ করতে পারি তা নিয়েও এই কপে আলোচনা হবে।  

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায়  ক্রমবর্ধমান ব্যয়বৃদ্ধি মেটাতে একটি সমন্বিত সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং কপ ২৮ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান ড. হাছান মাহমুদ। কপ ২৮ সম্মেলনের সাইডলাইনে ‘রাইজিং উইথ দ্য টাইড: ট্র্যাকিং রিফর্মস ইন ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার ফর এক্সিলারেটেড ডেভেলপমেন্ট-পজিটিভ ক্লাইমেট অ্যাকশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় পৃথিবী গ্রহটিকে মানুষের বাসযোগ্যভাবে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তিনি এ আহ্বান জানান। 

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যানে’র অধীনেই প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। আমরা উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ নই বরং এর অসহায় শিকার।’ 

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও কপ-২৮ কোয়ালিশনের সদস্য শরীফ জামিল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা এরইমধ্যে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে চলে এসেছে। পৃথিবীকে বাঁচাতে গেলে এটা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হবে। এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে  চলে গেলে সেটিকে আর কমানো যাবে না। সে সমস্ত দেশ নীতি কথা বলছে, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা বলছে তারাই জীবাশ্ম জ্বালালি খাতে বিনিয়োগ করছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের সারা বিশ্বের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা