প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ২২:২৯ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৩২ পিএম
পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। সংগৃহীত ছবি
পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার অপর একটি গেট দিয়ে চলে যান রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।
পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে পিটার হাসের বৈঠকের বিষয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
১১ দিন ছুটি কাটিয়ে গত সোমবার ঢাকায় ফেরেন পিটার হাস। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর তিনি শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন।
রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের তাদের কর্মস্থল থেকে নিজ দেশে বা অন্যত্র ছুটিতে যাওয়া স্বাভাবিক নিয়ম হলেও রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সফরটি বেশ আলোচিত হয়।
পিটার হাস ছুটিতে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের কাছে মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লুর চিঠি পৌঁছে দেন। ওই চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সহিংসতামুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নিঃশর্ত সংলাপের আহ্বান জানায়।
‘শ্রম অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্মারক নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই’
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, শ্রম অধিকারের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কেননা আমেরিকান ও ইউরোপীয়রা প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং গুণমানের কারণেই বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কেনে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমাদের পণ্যের মান উন্নত ও মূল্য সুলভ এবং তা সময়মতো ডেলিভারি করা হয় বলেই তারা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের পণ্য কেনে।
গত ১৬ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম অন অ্যাডভান্সিং ওয়ার্কার এমপাওয়ারমেন্ট, রাইটস, এন্ড হাই লেবার স্ট্যান্ডার্ডস গ্লোবালি’ ওয়াশিংটন বলেছে যে এটি ‘যারা ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, শ্রম অধিকার রক্ষাকর্তা ও শ্রম সংস্থাকে হুমকি দেয়, ভয় দেখায়, তাদের ওপর আক্রমণ করে, নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য ও ভিসা বিধিনিষেধের মতো তাদের আয়ত্তাধীন সমস্ত হাতিয়ার ব্যবহার করে তাদের জবাবদিহির সম্মুখীন করতে কাজ করবে।
এরপর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে বলে, স্মারকে শ্রম অধিকার নিয়ে যা বলা হয়েছে তার পেছনে রাজনীতি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করার চেষ্টা করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরএমজি রপ্তানির একটি বড় বাজার। আমাদের বেসরকারি খাত রপ্তানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতই বাংলাদেশের পণ্য কিনে থাকে। তারা আমাদের পণ্য কিনেন কারণ আমাদের পণ্য উচ্চমানের ও দাম সস্তা এবং তা সময়মতো ডেলিভারি করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সমগ্র শ্রম খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলে ঢাকা অবশ্যই স্বাগত জানাবে। বাংলাদেশ দেখতে চায় সব শ্রমিক ভালো জীবনযাপন করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো প্রচেষ্টা বাংলাদেশ দেখতে চায় না।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি রুটিন বৈঠক। আমরা খুশি যে তিনি (পিটার হাস) ছুটি শেষে ফিরেছেন।