কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ২০:২৭ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৪৭ পিএম
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্রস-পার্টি স্কটিস পার্লামেন্টারি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। প্রবা ফটো
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত পাঁচজন খুনির মধ্যে দুই খুনির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পাঁচজন আত্মস্বীকৃত খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে। এর মধ্যে তিনজনের খবর আমরা জানি না। দুজনের খবর আমরা জানি। তাদের একজন যুক্তরাষ্ট্রে আছে, আরেকজন কানাডায়।’
রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্রস-পার্টি স্কটিস পার্লামেন্টারি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী কানাডায় থাকলেও দেশটি তাকে ফেরত পাঠাচ্ছে না। তারা শুধু বলে—বিদেশে কোথাও হত্যা মামলার আসামি তাদের দেশের কেউ হলে, তারা তাকে সে দেশে পাঠাবে না। এতে দুনিয়ার যত খুনি ও ক্রিমিনাল আছে, তারা সুযোগ পাচ্ছে। তারা কানাডায় পৌঁছে গেলে নিশ্চিত মাফ পেয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীর কানাডায় অবস্থানের বিষয়টি সেখানকার রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির সরকারের কাছে নূর চৌধুরীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করলেও সেটা তারা জানায়নি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে নিয়ে কানাডার কোর্টে কেস করা হয়েছে। সেখানেও যথাযথ জবাব দেয়নি। সেখান থেকে জানানো হয়, অন্য কোনো দেশে ওই ব্যক্তির যদি প্রাণভয় থাকে এবং সে কথা যদি জানায়, তাহলে কানাডা সরকার তাকে আর দেশে ফেরত পাঠায় না। কানাডা সরকারকে নূর চৌধুরীকে জেলে রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ তিনি সেখানে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
নির্বাচন ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে। বিএনপি যদি তাতে অংশ না নেয়, তাহলে তাদের নেতাকর্মী অন্য দলে চলে যাবে।’
বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার ও তাদের মান উন্নয়ন নিয়ে সম্প্রতি একটি নতুন স্মারকপত্র স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্মারকপত্র প্রকাশের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তার বক্তব্যে কল্পনা আক্তার নামে বাংলাদেশের এক পোশাকশ্রমিক ও নেত্রীর কথা উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাংশনের দেশ। ওরা হুঁশিয়ারি দিতে পারে। ওরা বড় লোক। কিন্তু আমরা আমাদের মতো কাজ করব। বাস্তবতার নিরিখে আমরা কাজ করব। আমরা তো এক দিনে যুক্তরাষ্ট্র হতে পারব না। ওনারা (যুক্তরাষ্ট্র) যাদের টাকাটুকা দিয়ে রাখে তারা মনে করে এক দিনে বাংলাদেশ আমেরিকা হয়ে যাবে। হঠাৎ করে ওনারা বড় লোকের কথা বললে তাজ্জবের বিষয় মনে হয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ইতিহাস টেনে ড. আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থায় আসতে আড়াইশ বছরের মতো সময় লেগেছে। তাদের দেশে একসময় শ্রমিকরা ক্রীতদাস ছিল। আব্রাহাম লিংকনের সময় এটা বাদ পড়ে। এটা বাদ পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ হয়। ১৯ শতকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি শ্রমিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করত। ২০ সেন্ট মাত্র মজুরি পেত। সেই ইতিহাস তো আমরা ভুলিনি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তুলনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে আমরা জানি। সেদিক থেকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পদক্ষেপে শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ভালো। এখন তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) জনপ্রতি আয় ৬৫ হাজার ডলার। আর আমার ২ হাজার ৮০০ ডলার। সেই তুলনায় আমার শ্রমিকরা অনেক ভালো। তাদের আমাদের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসবে কি না, প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, ‘আমি জানি না। এটা অন্য দেশের এখতিয়ার।’