প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৫২ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:১৩ পিএম
প্রবা ফটো
২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে বিএনপির কর্মীরা তাণ্ডব চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, ‘রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশকেন্দ্রিক হরতাল ও অবরোধে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে নেতাকর্মীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ফলে জনমনের ভীতির সৃষ্টি করেছে।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ডাকা সমাবেশে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিএনপিকর্মী ইসমাঈল পাটওয়ারী, শ্যামপুর থানার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল সাঈদ রনি, শ্যামপুর থানার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব এসএম মুরাদ হোসেন মামু এবং বিএনপি-যুবদলের কর্মী মাকসুদুর রহমান মাসুদ, মোস্তফা কামাল সুমন। বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আল আমিন।
ডিবিপ্রধান বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে শাহজাহানপুর থানার কমলাপুর রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশকে মারধর করা হয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইসমাঈল পাটওয়ারী দুটি সবুজ রঙের প্লাস্টিকের লাঠি নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা করে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আবদুস সামাদের কর্মী সাঈদ রনি, মুরাদ ও মাসুদ তারা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজেও তাদের দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার মোস্তফা কামাল সুমন ২৮ অক্টোবর সমাবেশের দিন পুলিশের ওপর হামলা করে এক পুলিশ সদস্যের দাঁত ভেঙে ফেলেন। এমনকি এই ঘটনার ছবি প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন দাঁত ভাঙা জবাব দিয়েছি। এছাড়াও নিহত পুলিশ সদস্যের শিশু কন্যা ‘বাবা, বাবা বলে কাঁদছে’ এমন এক ফেসবুক পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করেছে ‘উই আর নট আনহ্যাপি’। গ্রেপ্তারের পর পর সবকিছু স্বীকার করেছে। এমনকি তার সঙ্গে যারা ছিল- তাদের পরিচয় স্বীকার করেছে।
পৃথক আরেক ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বংশাল এলাকায় আকাশ পরিবহনে যাত্রীবেশে উঠে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আল আমিন এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ থেকে গাজীপুর রুটে চলাচল করা আকাশ পরিবহনের একটি গাড়িতে বংশাল থানার নবাব ইউসুফ রোডের ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি থামলে যাত্রীবেশে কয়েকজন মিলে গাড়িতে ওঠে। পরে গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নেমে যায়। এই ঘটনায় জড়িত আল আমিনকে কেরানীগঞ্জ থানার চুনকটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাশকতা ও আগুনের ঘটনায় জড়িতরা গ্রেপ্তারের পর ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। পাশাপাশি তারা বলেছে এই নাশকতা তাদের পূর্ব পরিকল্পিত।