প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৪৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে বিদেশিদের কানঘুষা বেড়েছে। তাদের এই কানাঘুষা এ দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে নয় মূলত নিজেদের সুবিধা আদায় করতে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন কূটনৈতিক মুন্সী ফয়েজ আহমদ। প্রকৌশল এ কে এম এ হামিদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক ম. হামিদ, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম, কাশেম হুমায়ুন, প্রফেসর ড. মাহবুব আলী, উম্মে হাসান ঝলমল, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. নিলুফার বানু প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, গত দের দশকে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। যেসব ভূরাজনৈতিক সমস্যা আছে খুব শিগগিরই আমরা সেসব টিয়ে উঠব। নওয়াজীশ আলী খানের সঙ্গে আমি একটি কথা বলতে চাই, আমরা কোথায় ছিলাম আর কোথা এসে পৌঁছেছি। আগে কেউ আমাদের সম্মান করতো না। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে বিশ্ব নেতারা অপেক্ষা করেন।
উন্নয়নের ধারা অব্যহত রেখে দেশকে এগিয়ে নেবার আহ্বান জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আমদের আগে অনেকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্ঠা হয়েছে। কারো প্রভাব আর চোখ রাঙানি এখন আর শোনা হবে না। যারা মানবিক কথা বলছে, এরাই গাজায় মানুষ হত্যা করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চুপ থাকছে, সেই পশ্চিামারা এখানে আমাদেরকে মানবাধিকারের কথা বলছে।
বক্তারা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো পরাশক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা ধরনের উন্মুক্ত খেলায় মেতে উঠেছে। লাইন ধরে তারা বাংলাদেশে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তির তৎপরতার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
পশ্চিমারা একদিকে মানবতা ও গণতন্ত্রের ফেরি করে বেড়াচ্ছে, অন্যদিকে গাজায় হাসপাতালে হামলা চালিয়ে নিরীহ শিশুদের হত্যাকারী ইসরাইলকে নিলজ্জ সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এই অপতৎপরতা সফল হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন নাগরিক সমাজ।
বাক্তারা আরও বলেন, নিজেদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বা সুসংহতকরণ, অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণ এবং প্রতিপক্ষ দেশ বা দেশগোষ্ঠীকে প্রতিহত করা যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি লক্ষ্য নিশ্চয়ই এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়তে না দেওয়া বা সংকুচিত করা। বাঙালি কেউ কেউ বিদেশিদের সহায়তায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা তৈরির প্রস্তাব দিচ্ছেন। এদের মনোজগতে এখনো উপনিবেশিকতার ভূত বিরাজ করছে।
ভূরাজনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে বাংলাদেশকে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। অন্যদিকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ কাউক না কাউকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।