‘অনলাইন নমিনেশন সাবমিশন’ অ্যাপ উদ্বোধন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:০১ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:৩০ পিএম
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ও ইসি কর্মকর্তারা। ছবি : সংগৃহীত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘অনলাইন নমিনেশন সাবমিশন সিস্টেম’ (ওএনএসএস) ও ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ’ উদ্বোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপ উদ্বোধন করেন।
অনলাইন সিস্টেমে নমিনেশন জমায় প্রার্থীদের ‘আচরণবিধি’ ভঙ্গ ও ‘অনাচার’ কমে আসবে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আর স্মার্ট নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা অ্যাপস ভোটের অনিয়ম রোধে ভূমিকা রাখবে।
সিইসি বলেন, ‘অনলাইনে মনোনয়ন সাবমিশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে যে শোডাউন আমাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটা করতে গিয়ে আচরণবিধি ভঙ্গ হতে পারে। অনেক সময় সংঘাতও হতে পারে। মনোনয়ন সাবমিশন করতে গিয়ে অনেকে বাধাপ্রাপ্তও হন। সাবমিশন করার পর চাপ প্রয়োগ করা হয় নমিনেশন প্রত্যাহার করার জন্য।’
‘এই যে অনাচারগুলো হয়, অনলাইন সিস্টেমে সে অনাচারগুলো কমে আসতে পারে। অনলাইন সাবমিশনের ফলে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও পরিশুদ্ধ হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সিইসি জানান, অনলাইন মনোনয়নপত্র জমা সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য। আর স্মার্ট ইলেকশন অ্যাপ সাধারণ মানুষের জন্য। এটা ব্যবহারে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘৫০ থেকে ৬০ বছরে প্রযুক্তির যে পরিবর্তন হয়েছে, এটা অবিস্মরণীয়। প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে যদি না মেলাতে পারি তবে পিছিয়ে যাব। অনলাইনে সাবমিশন সিস্টেম ব্যবহার খুবই সহজ। প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।’
অনলাইন ভোটিং প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এখনও ঘরে বসে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথাও চালু হয়নি। তবে বর্তমানে ভারত ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটিং চেষ্টা করছে। তারা সফল হলে আমরাও প্রবর্তন করতে পারব। তবে কবে চালু হবে, সেই নিশ্চিয়তা এখন দিতে পারছি না।’
চার নির্বাচন কমিশনার যা বললেন
নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, প্রথম দিনেই মনোনয়ন সাবমিশন করতে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে প্রার্থীরা আসেন। এতে তাদের শক্তি প্রদর্শিত করা হতো। তারা প্রথম দিনেই নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করতেন। কিন্তু এই অ্যাপ দুটি তাদের আচরণবিধি ভঙ্গ করতে দেবে না। এ ছাড়া আমাদের সমাজে দেখা যায়, অনেকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেওয়া হয় বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বল প্রয়োগ করা হয়। এই অ্যাপের ফলে আর কেউ এরকম সুযোগ পাবে না।’
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের অনলাইন পদ্ধতি ও অ্যাপ ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্মার্ট ইলেকশন ব্যবস্থাপনা অ্যাপ চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট বাংলাদেশের যাত্রায় যুক্ত হলো।
নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা জানি এবং মানি, আমরা চাই বা না চাই, আমাদের প্রত্যেকের জীবন এখন প্রযুক্তি নির্ভরশীল। প্রযুক্তিকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আমরা যখন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে দেখেছি যতগুলো ইলেকশন হয়েছে প্রায় সবগুলোতেই মনোনয়ন সাবমিশনের দিন থেকে আচরণবিধি ভঙ্গটা শুরু হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়ন সাবমিশন করতে এসে শোডাউন করা হয়। কিন্তু আইনে বলা আছে, মনোনয়ন জমার সময় শোডাউন করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, এই অ্যাপের ফলে ভোট অনেক স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হবে এবং সাধারণ জনগণ এটাকে খুব ভালোভাবে নেবে।’
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘গত কমিশন অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু সেটা খুব একটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সেটা আজকে বাস্তবায়ন হলো, সেজন্য খুব ভালো লাগছে।’
মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগে সশরীরে মনোনয়ন জমা দিতে এসে অনেক লোকসমাগম হতো এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতো। এসব কারণেই আমরা একটা অনলাইন সিস্টেম চালু করছি। নতুন অ্যাপ অধিকতর জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার টুলস হিসেবে ব্যবহার হবে। এই কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সবকিছু স্বচ্ছভাবে করে আসছে।’