প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৩০ পিএম
ফাইল ছবি
দেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত করেছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। অর্থাৎ মজুরি বাড়ল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। যেখানে ২০১৮ সালে মজুরি বেড়েছিল ৫১ শতাংশ।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) মজুরি বোর্ডের বৈঠকের পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।
তিনি বলেন, ’প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা এটা ঘোষণা করছি। ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়বে। ৮ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হবে। সঙ্গে বছরে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে মজুরির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হবে। শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোতে পাঁচটি গ্রেড থাকবে। মোট মজুরির মধ্যে মূল বেতন হবে ৬৩ শতাংশ। তার মানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা মোট মজুরির মধ্যে মূল বেতন হবে ৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে। আর জানুয়ারির শুরুতে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাবেন শ্রমিকরা। সভায় অংশ নেওয়া শ্রমিক প্রতিনিধিও এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে।
সবশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করার দাবি ছিল শ্রমিকদের।
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে গত এপ্রিলে নিম্নতম মজুর বোর্ড গঠন করে সরকার। ২২ অক্টোবর পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা প্রস্তাব করা হলেও মালিকরা ১০ হাজার ৪০০ টাকা দিতে সম্মত হয়েছেন। মালিকদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পোশাকশ্রমিকরা ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানিয়েছেন। তবে সিপিডি ও বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড এক সংলাপে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। যা ছিল একেবারে বাস্তবসম্মত। যদিও যে বেতন ধরা হয়েছে তা তার থেকে ৫ হাজার টাকা কম।
সিপিডির বক্তব্য ছিল, দুজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে সামনে রেখে একটি পরিবারের ন্যূনতম খরচ হিসাব করে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একজন পোশাকশ্রমিকের পরিবারের খাওয়া খরচ ১৬ হাজার ৫২৯ টাকা। অন্যান্য খরচ ১২ হাজার ৮৮১ টাকা। মোট মাসিক খরচ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৪১০ টাকা। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৯৪২ টাকা। অর্থাৎ একটি পরিবারের দুজন কাজ করলেও সে বেতন দিয়ে সংসার চলবে না শ্রমিকদের।
সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও সাবেক বিজিএমই সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’২০১৮ সালে আমরা মালিকপক্ষ থেকে ১ হাজার টাকা বা ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে সেবার বোর্ডের সকলের সিদ্ধান্তক্রমে ২ হাজার ৭০০ টাকা বা ৫১ শতাংশ বেতন বেড়েছিল। এবার মালিকপক্ষ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা বেতন বাড়িয়ে ১০ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা। সামনে মজুরি বোর্ডের আরেকটি বৈঠক আছে। সেখানে সকলের সমন্বয়ে মজুরি কত টাকা বাড়বে, সেই সিদ্ধান্ত হবে। সেখানেও যদি না হয় তাহলে সরকারপ্রধান তো আছেন। আর বিজিএমইএ সভাপতি তো বলেছেন, সরকার যা নির্ধারণ করবে তাই মেনে নেবেন।’
তিনি বলেন, ’শুধু পোশাকশিল্পে বাড়ালেই তো হবে না। আরও ৪৪টি সেক্টর আছে। সব দিক বিবেচনা করেই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। অন্যান্য সেক্টরের চেয়ে পোশাকশিল্পে মজুরি বেশি।’
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ’প্রথম মজুরি বোর্ড গঠনের পর ১৯৯৪ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৯৩০ টাকা করা হয়। তারপর ১২ বছর পর করা হয় ১ হাজার ৬৬২ টাকা। ২০১০ সালে ৩ হাজার টাকা করা হলো। এর তিন বছর পার হতেই আবার বাড়ানো হলো। তখন আমরা ৫ হাজার ৩০০ টাকা করি। ২০১৮ সালে আবার ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করি। তখন কিন্তু শ্রমিকদের থেকে বা অন্য কেউ আমাদের কিছু বলেনি। আমরা নিজেরাই অনুভব করেছি। তখন ৮ হাজার টাকা করা হলো। এবারও আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি বেতন বাড়ানোর।’