বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৪৬ পিএম
সুনসান নিরব সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। প্রবা ফটো
ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাবেন রেদোয়ান মাহমুদ। বাসে যেতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। চারদিকে শুধু ভাঙচুর আর আগুনের খবর। তাই সকাল সকাল ছুটে এসেছেন সদরঘাট। সেখানে তাকে দিতে হলো ‘ধৈর্য্যের পরীক্ষা।’
রেদোয়ান বলেন, ‘বাস তো এমনিতেই কম চলছে। আমার নিজের বাসে চলাচল করতে ভয় করে। তাই লঞ্চঘাটে এলাম। টিকেট কেটে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করছি। কখন লঞ্চ ছাড়বে জিজ্ঞাসা করছিলাম। তারা বলছে, একেবারে যাত্রী নেই। আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। কিছু যাত্রী হলেই লঞ্চ ছাড়বে।’
সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত সপ্তাহে এক দিন হরতাল ও টানা তিন দিন সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। রবিবার থেকে আবার তাদের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ৩০ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ১৮টি যানবাহনে আগুনের খবর দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এমতাবস্থায় সড়কপথ পরিহার করে দূরপাল্লার যাতায়াতে অনেকে স্বস্তি মনে করছেন নৌপথ। তবে নৌপথেও নেই তেমন যাত্রীর চাপ। এতে শিডিউল অনুযায়ী লঞ্চ না ছেড়ে যাত্রীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৬ নভেম্বর) সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কয়েজজন যাত্রী দেখা গেলেও তা একেবারেই নগন্য। যাত্রী না থাকায় এই রুটের লঞ্চও ছাড়ছে কয়েক ঘণ্টা পরপর। যে কয়েকজন যাত্রী অবরোধের মধ্যেও লঞ্চে পাড়ি জমাচ্ছেন তাদের মধ্যেও উদ্বেগ-শঙ্কা কাজ করছে।
গত শুক্র ও শনিবার অবরোধ না থাকায় সদরঘাটে ছিল যাত্রীদের সরব উপস্থিতি। নিয়মিতভাবেই চলেছে বিভিন্ম রুটের লঞ্চ। তিন দিনের অবরোধ শেষে স্বস্তি ফিরেছিল সদরঘাটে। তবে দ্বিতীয় দফার অবরোধে পাল্টেছে সেই চিত্র। রবিবার অবরোধের প্রথম দিনেও যাত্রীশূন্য ছিল টার্মিনাল এলাকা। মাত্র কয়েকটি লঞ্চ ছাড়লেও ছিলনা যাত্রীদের তেমন উপস্থিতি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চাঁদপুরগামী মাত্র দুইটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। অন্যান্য রুটেও একই অবস্থা। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মাত্র কয়েকটি লঞ্চ ঘাটে ভিড়লেও ছিল না যাত্রীর চাপ।
ঈগল-৩ লঞ্চের স্টাফ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ থাকলে তো যাত্রী হয় না। গতকালও ঘাটে যাত্রী ছিল না। আজও একই অবস্থা। আগে আধঘণ্টা পর পর লঞ্চ ছাড়ত। এখন কয়েক ঘণ্টা পরপর একটা করে লঞ্চ ছাড়ে। তাও যাত্রী হয় না। কিছু তো করার নেই। আমাদের বসেই সময় কাটাতে হচ্ছে।’
লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা লঞ্চ চলাচল সচল রেখেছি। কিন্তু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে লঞ্চ কম চলছে। যাত্রী না পাওয়া গেলে তো লস দিয়ে লঞ্চ চালানো যায় না। তাও যে কয়টা লঞ্চ ছাড়ছে সেগুলো চালাতেও আমাদের অনেক লস দিতে হচ্ছে।’
সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, নৌপথে যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌপুলিশ সার্বক্ষণিক নদীতে টহল দিচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য নৌ পলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তল্লাশিও করা হচ্ছে।