প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৩৫ পিএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ২০:০৭ পিএম
সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সভায় অতিথিরা। প্রবা ফটো
সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনের ছাপ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ’যতভাবেই ১৯৭২-এর সংবিধান নিয়ে আলোচনা করি না কেন, কখনোই এটাকে বঙ্গবন্ধুর দর্শন থেকে আলাদা করতে পারব না। কারণ এই সংবিধান পুরোপুরি বঙ্গবন্ধুর দর্শনেরই প্রতিফলন।’
রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ৫২তম সংবিধান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. মোখলেসুর রহমান বাদল, পোল্যান্ডের মানবাধিকার নেতা নাটালিয়া সিনায়েভা প্যানকোভস্কি প্রমুখ।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ’বাংলাদেশের সংবিধান ৯ মাসে প্রণীত একটি দলিল। আমরা এই সংবিধানের ৫২ বছর পেরিয়ে এসেছি।’
তিনি বলেন, ’মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বঙ্গবন্ধু এই সংবিধান রচনা করেছিলেন। সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। যেখানে বঙ্গবন্ধুর দর্শন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মানুষের শিক্ষা-দীক্ষা, নারী-পুরুষ ও অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।’
স্পিকার বলেন, ’সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং তাদের মতামত ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয়। এটা বুঝেই বঙ্গবন্ধু সংবিধান রচনা করেছিলেন। সেজন্য তিনি বারবার জনগণের কাছে ফিরে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ৭২-এর সংবিধানেই ফুটে উঠেছে।’
সরকারের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ’আজকে বাংলাদেশ বদলে গেছে এবং বদলে যাচ্ছে। এই দর্শনটাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তার দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমাদের সবাইকে বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদের অনুভূতিতে শামিল হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ’জামায়াত নির্বাচন করতে অক্ষম। ইসলামী আন্দোলনও বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনকে অসাংবিধানিক দাবি করছে। তারা যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটাচ্ছে তাতে তাদের জনসমর্থন কমে যাচ্ছে। সংবিধান, আইনের শাসন জীবিত রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। যারা আটক হচ্ছেন তাদের ১০৯ ধারায় হুকুমের আসামি করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কিছু বিদেশি শক্তিও সুর মেলাচ্ছে। যেটা দুঃখজনক।’
অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ’১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বন্দুকের নলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করেছিল ঘাতকরা। দেশকে মৌলবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ। তাই সবার রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করতে ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ এই সংবিধান সম্পূর্ণভাবে মানুষ ও মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।’
শাহরিয়ার কবির বলেন, ’জামায়াত বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বাস করে না। যে কারণে তাদের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে। আর বিএনপি ক্ষমতা দখল করেছে অসাংবিধানিকভাবে। সেজন্য তাদের কোনো অধিকারই নেই সংবিধান সংশোধন করার। এজন্য তারা সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করছে।’
তিনি বলেন, ’বাংলাদেশে দুই জেনারেল ধর্মের রাজনীতি করেছে। যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিপন্থি। আগামীতে আমাদের নির্বাচন। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকব না সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে থাকব।’