রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২২ ২১:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার বিষয়ে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে আইসিজের সভাপতি দোয়ান-এ-দোনোঘু এ রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে রোহিঙ্গা গণহত্যার মূল মামলার শুনানির পথ উন্মোচিত হলো।
মিয়ানমারের দাবি ছিল, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা এই মামলার বিচার করার এখতিয়ার নেই আইসিজের। তবে এ রায়ে আইসিজে বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার করার পুরো এখতিয়ার রয়েছে তাদের।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গা গণহত্যার বিভিন্ন প্রমাণ থাকার পরও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আদালতে আপত্তি জানায়। এমনকি জান্তা সরকার আদালতের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে তোলে প্রশ্ন। গাম্বিয়ার কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় মামলার অধিকার নিয়েও আপত্তি জানায় নেপিদো। এর মধ্যেই আইসিজেতে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তির ওপর গণশুনানি শুরু হয় চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি। মাসব্যাপী চার দফায় মিয়ানমারের আপত্তি বিষয়ে মিয়ানমার ও গাম্বিয়া উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি যুক্তি উত্থাপিত হয়। সে সময় শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেন জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা মন্ত্রী কো কো লাইং।
দীর্ঘ শুনানি ও যুক্ততর্ক উপস্থাপনের পর শুক্রবার মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দেন আইসিজে। এই রায়ের ফলে জাতিসংঘের আদালতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানিতে আর কোনো বাধা থাকলো না।
এর আগে গ্লোবাল জান্টিস সেন্টার সভাপতি আকিলা রাধাকৃষ্ণ বলেন, মিয়ানমারের আপত্তি খুব সম্ভবত আইসিজে প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে। যদি খারিজ হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত মামলাটি পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তারপর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় এনে আদালত পরবর্তী কাজ শুরু করবেন।
এর আগে, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা ও গণহত্যার শিকার হন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসির সহযোগিতায় ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে গণহত্যার মামলা করে গাম্বিয়া।