সচিব সভা
ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে বুধবার (১ নভেম্বর) থেকে। চলতি মাসের প্রথমার্ধেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে। প্রশাসনেও চলছে জাতীয় নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে সর্বশেষ ‘সচিব সভা’ করতে পারেন। তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচনের আগে সর্বশেষ এ সচিব সভায় বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা করতে না দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে সচিবদের নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যমান কথিত রাজনৈতিক সংকটের অজুহাতে কেউ যাতে ফায়দা না নিতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এদিকে সচিব সভার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে সাতটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সচিব সভায় যে আলোচনা হতে পারে
সূত্র জানায়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের সঙ্গে সভা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। তখন নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে রুটিনমাফিক। যে কারণে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনে ‘সচিব সভা’ হিসেবে উল্লিখিত এই সভার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এ সভায় প্রধানমন্ত্রী আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।
সচিব সভার আগেই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং সভার কার্যপত্র সংবলিত যথোপযুক্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পয়েন্ট পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে সব সচিবকে নিয়ে সরকার প্রধানের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। আবার আলোচ্যসূচির বাইরেও আলোচনা হতে পারে। সুতরাং এই বৈঠক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংবিধান অনুযায়ী চলমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধ্কতা রয়েছে। কিন্তু সংসদের বাইরে থাকা একটি রাজনৈতিক দলসহ বিদেশি কূটনীতিকরা নানাভাবে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। তা ছাড়া নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। বিষয়টি সরকারকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। এর লাগাম টেনে ধরে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এ বৈঠকে সচিবদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সংকট সমাধানের উপায় খুঁজতে সব সচিবকে নিয়ে বসছেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের এ সচিব সভার জন্য ১১-১৬টি আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বৈঠকে গত তিন মেয়াদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করা হবে। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাও টানা ১৪ বছর ও চলমান মেয়াদের ৫ বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। এ ভাষণে যেসব বিষয় তুলে ধরা হবে, সে বিষয়গুলো নিয়ে সচিব সভায় আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ বছরে বিশেষত যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু, তিস্তা সেতু, পায়রা সেতু, দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, দ্বিতীয় মেঘনা, দ্বিতীয় গোমতী সেতুসহ শত শত সেতু, সড়ক, মহাসড়ক নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ করেছে এ সরকার।
সাত উপকমিটির কর্মপরিধি
এদিকে সচিব সভার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে সাতটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছেÑ সভাটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, এ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় সাধন করা, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অগ্রগতি অবহিত করা এবং বিভিন্ন উপকমিটি গঠন, কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২৩ জুলাই। এর আগে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সব সচিব উপস্থিত ছিলেন। করোনা মহামারির পর এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী সশরীরে সচিবালয়ে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সচিব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচনের আগে হওয়া এই সচিব সভা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সভায় দেশে চলমান পরিস্থিতি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, চ্যালেঞ্জ সমাধানে কী করণীয়, সে সম্পর্কে এ সভায় বক্তব্য উত্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প ও এর বাস্তবায়ন সম্পর্কেও অবহিত করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছরে দেশে অনেক উন্নয়ন করেছে। এই উন্নয়ন শুধু শহরে নয়, গ্রাম পর্যায়েও হয়েছে। দেশের জনগণ এর সুফল পাচ্ছে। তাদের সম্পাদন করা কার্যক্রম সম্পর্কে সচিব সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।