যাত্রীদের দুর্ভোগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ২১:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ২২:০৮ পিএম
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কাউন্টারে এসে বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। প্রবা ফটো
বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সঙ্গে অনেক জেলার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় কোনো বাস আসেনি। অন্যান্য জেলায়ও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা।
তাদের দাবি, যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একাধিক মালিক জানিয়েছেন, যাত্রী সংকটের কারণে তারা বাস বন্ধ রেখেছেন। বাস বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও অনেক জেলার মানুষ ঢাকায় আসতে পারেনি।
এদিকে রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চৌকি বসিয়ে বাসসহ অন্যান্যা যানবাহনে তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অনেক যাত্রী।
বাস বন্ধের বিষয়ে রংপুরের আগামনি পরিহনের ম্যানেজার সুব্রত চন্দ্র সরকার বলেন, ’আমরা বাস বন্ধ করিনি। যাত্রী কম থাকায় বাস কম চলছে। যাত্রী বাড়লে বাসও বাড়বে।’
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল ঠেকাতে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’আমরা বাস বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। সব রুটেই বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকার কথা।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, ’পরিবহনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেকেই বাস বন্ধ রেখেছে। কোনো কিছু হলেই তো বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। কে চাইবে নিজের সম্পদ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি হানিফ খোকন বলেন, ’এক দিনও কেউ পরিবহন বসিয়ে রাখতে চায় না। বাস বসে থাকলে মালিক-শ্রমিকদেরই ক্ষতি। কিন্তু যখন সবাই বাসের ওপর মারমুখী হয়, তখন মালিকরা নিজ থেকেই বাস বন্ধ করে দেন।‘
যাত্রীদের দুর্ভোগ
আমাদের ময়মনসিংহ অফিস জানিয়েছে, মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল হঠাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।
আবুল হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ’দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ঢাকায় জরুরি কাজ থাকলেও যেতে পারছে না।’
নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডের ম্যানেজার খোরশেদ আলম বলেন, ’মালিক সমিতির নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও রাস্তায় বাস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবারও বাস চলাচল বন্ধ থাকতে পারে।‘
ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ’বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাসে অগ্নিসংযোগসহ ভাঙচুর হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে চালক-মালিকরা বাস চালানো বন্ধ রেখেছে।’
সাভার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, একই দিনে তিন দলের মহাসমাবেশ ঘিরে সাধারণ মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমে গেছে।
সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া, জিরানী, ইপিজেড, বাইপাইল, নবীনগর, সাভার ও হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, ঢাকার আশপাশে জেলার যাতায়াতের জন্য লোকাল বাসের অপেক্ষায় রয়েছে অনেক যাত্রী।
বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ ও র্যাবকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। আশুলিয়া, শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, কদমতলী, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গীসহ সবকটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশির খবর পাওয়া গেছে। এ সময় যাত্রীদের ব্যাগ, কাগজপত্র এমনকি মোবাইল ফোনও ঘেটে দেখা হয়।
বিষয়টি নিয়ে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার যেহেতু বড় দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি আছে, তাই যে কেউই বিস্ফোরক বা অস্ত্র বহন করে এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।‘
সাভার মডেল থানার ওসি দীপক সাহা বলেন, ’সমাবেশের কর্মীদের সঙ্গে যেন কোনো দুষ্কৃতিকারী ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে, তাই তল্লাশি করা হচ্ছে।’
সদরঘাটে খেয়া পারাপার বন্ধ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিন দলের সমাবেশকে ঘিরে সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল কমেছে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে খেয়া পারাপার। শুক্রবার সকাল থেকে সদরঘাটে খেয়া পারাপার স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকে তা কমতে শুরু করে। সন্ধ্যার আগে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে পারাপার হতে আসা যাত্রীরা। শনিবার সকাল থেকেও খেয়া পারাপার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে খেয়া মাঝিরা।
মাঝি শফিকুল ইসলাম বলেন, ’কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশ হলেই নেতারা এসে খেয়া চলাচল বন্ধ রাখতে বলেন। আমরা তাই বাধ্য হয়ে খেয়া বন্ধ রাখি।’