ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ০১:০৬ এএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ২২:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আলুর দামে দম বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা! বাড়তে বাড়তে আলুর কেজি ৬০-৭০ টাকায় পৌঁছেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম এমন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বেকায়দায় পড়েছে। অনেক সংসারের খাদ্যতালিকা থেকে মাছ, মাংস, ডিম বাদ পড়েছিল আগেই। সেখান থেকে এবার আলুও প্রায় ছিটকে পড়ার উপক্রম। রাজধানীর বাজারগুলোতে অবশ্য ৫৫ টাকায়ও আলু পাওয়া যাচ্ছিল। তবে এ দাম কতক্ষণ স্থির থাকবে, তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে সন্দিহান থাকতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি আলু খুচরা ক্রেতাদের কাছে ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি জাতের লাল আলু প্রতিকেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে হাল্কা লাল ডায়মন্ড কিছুটা নষ্ট ও দাগ পড়া আলু ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের ফার্নিচার ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান গত মঙ্গলবার বলেন, পকেটের সব টাকা যদি আলু কিনতেই চলে যায়, তাহলে সংসার চালাব কী দিয়ে। এক কেজি আলু ৬০ টাকায় কিনতে হলো। ঢ্যাঁড়সের দাম ৮০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা। আমাদের আয় কত বলেন?
রাজশাহী প্রতিবেদক রাজু আহমেদ জানান, ওই নগরীতে আলুর দাম প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বৃষ্টিতে শাকসবজি নষ্ট হওয়ায় আলুর চাহিদা বেড়ে গেছে বলে অজুহাত দিচ্ছেন।
বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সরকার হিমাগার পর্যায়ে পাইকারিভাবে আলুর দাম ২৬-২৭ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু ওই দাম দেশের কোথাও কার্যকর করা যায়নি। ওই সময় আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্য সচিব গোলাম রহমান গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমবে না বরং বাড়বে। আর হচ্ছেও তাই।
ক্যাব সভাপতি আরও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি, কিন্তু কে কার কথা শোনে? এ অবস্থা চলতে থাকলে বাজারদর আরও বাড়বে, মানুষের দুঃখ-কষ্ট বাড়বে। তবে নির্বাচনের আগে সরকার এ খাতে হাত নাও দিতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান মনে করেন, সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমলে তার প্রভাব সারা দেশেই পড়বে। তবে স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি করতে হবে। পরিবহন খরচ যাতে চাঁদাবাজির কারণে না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।