× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্রেপ্তার নয়, আটকের ক্ষমতা পাচ্ছে আনসার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ২২:২৫ পিএম

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:২৮ পিএম

গ্রেপ্তার নয়, আটকের ক্ষমতা পাচ্ছে আনসার

গ্রেপ্তার নয়; সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষমতা রেখে সংশোধন হচ্ছে প্রস্তাবিত আনসার ব্যাটালিয়ন আইন-২০২৩। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও স্থানে তল্লাশি এবং বেআইনি বস্তু জব্দের ক্ষমতাও ওই আইন থেকে বাদ দেওয়া হবে। বুধবার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে পুলিশ এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনে শুধু ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা আটক করার ক্ষমতা পাবেন। তবে আটকের পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে পারবেন না তারা। আটককৃতকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে হবে। অঙ্গীভূত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা আটকের ক্ষমতাও পাবেন না। 

এদিকে বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান বিজয় দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। আনসার বাহিনীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে কি নাÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নটা ভুল ধারণার প্রেক্ষিতে করছেন। আনসার বাহিনীকে গ্রেপ্তার করার পারমিশন কখনও দেওয়া হয় না, আজকেও দেওয়া হয়নি এবং কোনো আইন দ্বারা সেটা দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমাদের নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, আনসারের যে আইনটি আসছে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ পর্যায়ে এখানে এসেছে। এটা আমাদের স্থায়ী কমিটিতে গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। সেখানে কোনো শব্দ, বাক্য যদি এ ধরনের প্রশ্নের অবতারণা করে, তবে সেগুলো কারেকশন হবে। এখানে প্রচলিত আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো বাহিনীকে প্রচলিত ফৌজদারি আইন মেনে কাজ করতে হয়।

এর আগে প্রস্তাবিত আনসার ব্যাটালিয়ন আইন নিয়ে দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ ও আনসারের সভা হয়। সভায় পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) কামরুল আহসান, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ দুই বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রস্তাবিত ব্যাটালিয়ন আনসার আইনের খুঁটিনাটি সব বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আনসারকে গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানায় পুলিশ। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আনসার মহাপরিচালক।

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, আনসার মহাপরিচালক যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা গ্রেপ্তার, তল্লাশি করবে। এটা শুধু ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের জন্য। তারা পার্বত্যাঞ্চলসহ অনেক সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। এই ক্ষমতা তাদের থাকা জরুরি। অপরদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতাসহ যেসব ধারাগুলো পুলিশের বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেসব বিষয়ে আপত্তি তুলে ধরা হয়। 

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনের ধারা-৮ এ ব্যাটালিয়ন সদস্যদের এখতিয়ার ও ক্ষমতা বিষয়ে বলা হয়েছে। ধারা-৭ এ বলা হয়েছে, ‘উল্লিখিত কার্যাবলি সম্পাদনকালে কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য তাহার সম্মুখে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে অপরাধ সংঘটনকারীকে আটক করে অবিলম্বে পুলিশের কাছে সোপর্দ করবে এবং ক্ষেত্রমতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এতদুদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে ওই আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি, কোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি এবং মালামাল জব্দ করতে পারবে।’ এই ধারাকে ফৌজদারি কার্যবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আটক, তল্লাশি ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করতে পারেন সাব ইন্সপেক্টরের নিম্ন নহেন এমন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা। এমনকি বিচারের ক্ষেত্রে পুলিশের প্রস্তুত করা জব্দ তালিকাই আদালতে গ্রহণযোগ্য। তল্লাশি ও আলামত জব্দ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এই সব কার্যক্রম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাগণ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারার আলোকে ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়ে কার্য সম্পাদন করে থাকেন।’

সভায় উপস্থিত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাত ও আট নম্বর ধারা ছাড়াও আইনে আরও বেশ কিছু বিষয় আছেÑ যা আনসার বাহিনীর জন্য। আমরা শুধু সাত ও আট নম্বর ধারার বিরোধিতা করেছি। মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন আইনটি যেহেতু সংসদীয় কমিটির সভায় আছে, তাই এটা সংশোধনের সুযোগ আছে। আমরা মন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছি। আশা করছি পুলিশের আইন ও প্রবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা থাকবে না।’

বৈঠকে উপস্থিত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পুলিশের। যুক্তিসংগত কারণে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ করে আইনের হেফাজতে নেওয়াকে গ্রেপ্তার বলা হয়। এটা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬(১) ও পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গলের (পিআরবি) ৩১৬ ধারা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অপরদিকে পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো সংস্থা কাউকে ধরে নিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। যা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ (২) ধারা ও পিআরবির ৩১৬ ধারা। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে অপরাধের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ধরে নিলে সেটাকে আটক এবং যখন আটকের বিষয়টি অপরাধের বিবরণসহ নথিপত্রে উল্লেখ করা হবে, সেটা হবে গ্রেপ্তার। পিআরবি অনুযায়ী আটক ও গ্রেপ্তারের ধারা একই। 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। তাই ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা কাউকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে সেটা পুলিশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, বরং সহায়ক হবে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী জব্দ ও তল্লাশির ক্ষমতা শুধু পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা