প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:২৬ এএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৪৯ এএম
ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে তোলা। ফোকাস বাংলা
ঘূর্ণিঝড় হামুন মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি দুর্বল হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগের আরও ভেতরে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় হামুন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল রাত ১টায় উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে। এটি দুর্বল হয়ে সাতকানিয়া, চট্টগ্রামে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৫তম (শেষ) বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেতের পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদসংকেতের পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় হামুন চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায় আঘাত হানে। এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গাছপালা ভেঙে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অনেক জায়গায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়। গতকাল সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টির মূল অংশ উপকূল অতিক্রম করার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার।
মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘রাত ৮টায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রেকর্ড করা হয় ১০৪ কিলোমিটার।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি অল্প সময়ের মধ্যে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় বেশি শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। এজন্য ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়েছে।’