বন্দরে বিপদ সংকেত
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:২৪ পিএম
ফাইল ফটো
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল হামুন। এজন্য পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারকে ৬ নম্বর ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কাও করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কি.মি. পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ ভোলার পাশ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতি কোথাও ৮০ কিলোমিটার, কোথাও ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ৩-৫ ফিট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে। কক্সবাজার, বান্দরবানে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা আছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী চাঁনপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮. মি.মি.) থেকে অতি ভারী (৮৯ মি.মি. বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলো এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুটের বেশি বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী ৮৯ মি.মি. বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাশানাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি ধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’