প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:৪৪ পিএম
আগামী ২৮ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। এদিন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সম্মিলিত সমাজ।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের (আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার) সভাপতি প্রকৌশলী দিব্যেন্দু বিকাশ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন-ইয়ুথ এর সভাপতি অমল কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহসভাপতি রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি নেত্রা সেন বড়ুয়া প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আগামী ২৮ অক্টোবর বিশ্ব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্যোগে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় ও সামজিক-সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানিকতায় শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এই তিথি বা উৎসব পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় বিধায় এক বছর পূর্বেই এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন-তারিখ নির্দিষ্ট হয় এবং সকল সরকারি-বেসরকারি পঞ্জিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করে আসন্ন পূর্ণিমা তিথিকে নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি মুক্ত রাখবেন- সে আশা করছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, দেশের কিছু রাজনৈতিক দল হয়ত অনিচ্ছাকৃত ও অসাবধানতাবশত উক্ত দিবসে কর্মসূচি প্রদান করেছেন, ইতোমধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে চলছে নানা মাত্রিক প্রচারণা।’
তিনি বলেন, ‘বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা শুধু একদিনের একটি অনুষ্ঠান মাত্র নয়। এটি একটি ধারাবাহিক ধর্মাচরণের অংশ। প্রবারণা পূর্ণিমা হলো বিগত তিন মাসের সাধনা পূর্ণতার তিথি। এই প্রবারণা পূর্ণিমা নির্দিষ্ট পূর্ণিমা তিথিতেই আয়োজন করা বিধেয়। অন্যকোনো বিকল্প তিথিতে এই পূর্ণিমার আয়োজন করা সম্ভব নয়।’
সুমন কান্তি বড়ুয়া আরও বলেন, ‘তাই শঙ্কাহীনভাবে ধর্ম পিপাসু মানুষের যাতায়াত এবং দ্বিধাহীন চিত্তে ধর্ম পালনের যথার্থ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে আমরা দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদদের আন্তরিক সহানুভুতি ও সহযোগিতা কামনা করছি। তাদের প্রতি বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের পক্ষে উদাত্ত আহবান জানাই আগামী ২৮ অক্টোবর প্রস্তাবিত রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিবর্তন করার। একই সঙ্গে দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে বার্ষিক ধর্মীয় তিথি ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’ নির্বিঘ্নে পালনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’