প্রতিদিনের বাংলাদেশের খবর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ১১:৩০ এএম
‘তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে আনসার ও ভিডিপি’ শিরোনামে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ রবিবার (২২ অক্টোবর) সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ বাহিনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন ফোরামে দিনব্যাপী আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল প্রতিবেদনটি। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা প্রস্তাবিত আনসার ভিডিপি আইনে আপত্তি জানানোর পাশাপাশি ক্ষোভও জানিয়েছেন।
পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতাসহ যেসব ধারাগুলো পুলিশের বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সেবস বিষয়ে আমরা আমাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেছি। আমাদের দাবিগুলো মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পেশ করেছি। তিনি সেগুলো পুরনের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনের ৭ ও ৮ ধারা নিয়ে আমাদের আপত্তি।
এছাড়া রবিবার পুলিশের কোর কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এসোসিয়েশন নেতারা।
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রস্তাবিত আইনের ধারা-৮-এ ব্যাটলিয়ন সদস্যদের এখতিয়ার ও ক্ষমতা বিষয়ে বলা হয়েছে। ধারা-৭-এ বলা হয়েছে, ‘উল্লিখিত কার্যাবলী সম্পাদনকালে কোনো ব্যাটিলিয়ন সদস্য তাহার সম্মুখে সংঘঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে অপরাধ সংগঠনকারীকে আটক করে অবিলম্বে পুলিশের নিকট সোপর্দ করবে এবং ক্ষেত্রমতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এদত উদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে উক্ত আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশী, কোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশী এবং মালামাল জব্দ করতে পারবে।’
পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন বলছে, ‘এই ধারাটির প্রয়োজনীয়তা নেই। বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আটক, তল্লাশী ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করতে পারেন সাব ইন্সপেক্টরের নিম্ন নন এমন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা। এমনকি বিচারের ক্ষেত্রে পুলিশের প্রস্তত করা জব্দ তালিকাই আদালতে গ্রহণযোগ্য। তল্লাশী ও আলামত জব্দ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এই সকল কার্যক্রম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাগণ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারার আলোকে ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়ে কার্য সম্পাদন করে থাকেন।’
যুক্তি তুলে ধরে পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন বলছে, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির সম্মুখে কেউ আমলযোগ্য অপরাধ করলে তাকে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে বিধায় নতুন করে আটক করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজনীয় নেই। সুতরাং প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী আনসার ব্যাটলিয়ন কর্তৃক জব্দ তালিকা প্রস্তুত, তল্লাশী ও গৃহে প্রবেশ করার এখতিয়ার দেওয়া হলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে এবং তদন্তসহ বিচারকাজ ব্যহত হবে।’
এসোসিয়েশন আরও বলছে, ‘ব্যাটিলয়ন আনসারের ম্যান্ডেট হচ্ছে তারা একটি সহায়ক বাহিনী। সহাধিকারক্ষেত্রে আটক, তল্লাশী, জব্দ ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত অপরাধ দমন ও উদঘাটনের ধারাবাহিক কার্যক্রম বা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবশ্যই পুলিশ ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এইক্ষেত্রে আনসার ব্যাটলিয়নকে ওই সকল কার্যক্রমের কর্তৃত্ব দেওয়া হলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে।’
তারা আরও জানায়, ‘কোনো আইন প্রয়োগের জন্য একাধিক বাহিনীকে সহাধিকারক্ষেত্র দেওয়া হলে আইন প্রয়োগকালে পারস্পরিক ভুল বুঝাবুঝি ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদসহ নানাবিধ সমস্যা তৈরি হবে। যা আন্তঃবাহিনীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।’