× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিরাপদ সড়ক দিবস

সড়কে নিহতদের ৫১ শতাংশই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি

ফারহানা বহ্নি

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:১৫ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা লামিয়া আক্তার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বাবার স্বপ্ন ছিল একমাত্র মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। তবে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বাবা মো. আলামিন। বাবাকে হারিয়ে পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হতে চলেছে লামিয়ার। কখনও কখনও ঠিকমতো খাবারও জোটে না।

দিনমজুরের কাজ করতেন মো. আলামিন। কাজ শেষে ফেরার সময় গত বছরের এপ্রিলে গাড়িচাপায় মারা যান তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন আলামিন। এখন এক সন্তানকে নিয়ে দিশাহারা লামিয়ার মা আয়েশা আক্তার। আয়েশা আক্তার বলেন, ‘বাপটাকে হারাইল মেয়েটা, আমরাও নিঃস্ব হইলাম। কোনো কোনো সময় ঘরে খাবার থাকে না। অনেক কষ্ট হয়। অসহায় লাগে। মেয়ে কিছু চাইলে দিতে পারি না। পড়াশোনাটা টাইনে-টুইনে করছে। একটাই মাইয়া আমার। বাপ বলত, মেয়েই ভালো। ওরে পড়ালেখা শেখাব। এখন তো খাইতেই পাই না। পড়ালেখা কেমনে করাব?’

একই অবস্থা ১৬ বছরের আরেফিনের। তিন ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বাবাকে আর দেখতে না পারার শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আরেফিন বলে, ‘আব্বু আমার বন্ধু ছিল। যা লাগত বাসায় ফেরার সময় নিয়ে আসত। আর কারও কেউ যেন এভাবে না হারায়।’

গত বছর ৯ জুলাই রাজধানীর মৌচাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান আরেফিনের বাবা পিকআপ ভ্যানচালক আবদুর রহিম। তারপর তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন আবদুর রহিমের স্ত্রী পান্না আক্তার। পাননি কোনো ক্ষতিপূরণ। পান্না বলেন, ‘ওরা তো এভাবে না খেয়ে থাকে নাই কখনও। আমি এখন আরবি টিউশনি করি। টুকটাক টাকায় তিন বাচ্চা পড়াব কীভাবে? খাওয়াব কী? ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। এখন যদি সেটাও পাই, তাহলেও কিছুটা সহযোগিতা হয়।’

সড়ক দুর্ঘটনার এ চিত্র এ দেশে নতুন নয়। একদিকে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে পরিবারগুলোকে পথে নামতে হচ্ছে। এরই মধ্যে আজ রবিবার সারা দেশে পালিত হচ্ছে নিরাপদ সড়ক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আইন মেনে সড়কে চলি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি’। ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।

সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিন গড়ে ২৭ জন মারা যাচ্ছে সড়কে। নিহতদের ৫১ শতাংশই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৬ হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ৯৫১ জন। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির এ সংখ্যা গেল ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের কর্মক্ষম ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক ক্ষতি হচ্ছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনার মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষায় কোনো বাজেট নেই।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ রাস্তায় চলাচল করছে। বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তায় ফিটনেসবিহীন বাস বড় সংকট তৈরি করছে। তাই এখন এসব যান রাস্তায় পেলে জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। তা না হলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম হাদিউজ্জামান বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু যা হওয়া প্রয়োজন তা হচ্ছে না। চালকের দক্ষতা দেখে সার্টিফিকেট দেওয়া হয় না। পাল্লা দিয়ে আনফিট গাড়ি বেড়েই চলেছে। দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব খুচরা গণপরিবহনে তার সমাধান হবে না। সেবার মানদণ্ড বিবেচনা করে রাস্তায় মানসম্পন্ন পরিবহন নামাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা পথচারীদের আইন মানতে বলছি। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ খুবই সামান্য। শুধু চালক নয়, বাস নয়Ñ সব দিকেই নজর দিতে হবে। তবেই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা