বিরোধী আন্দোলন দমন
আলাউদ্দিন আরিফ
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:১৮ এএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিরোধী পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও দেখা যাচ্ছে হার্ডলাইনে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে- এমন আশঙ্কায় রাজধানীসহ সারা দেশে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে বিভিন্ন ইউনিটকে উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যারা নির্বাচনে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে তাদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারির কথা বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন মহানগর ও জেলাগুলোতে দাঙ্গা পুলিশ ও ব্যারাকে থাকা রিজার্ভ পুলিশসহ বিশেষ ফোর্সকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হচ্ছে। থানার ওসি, জেলা পুলিশ সুপারসহ ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিজ এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ‘একান্ত জরুরি প্রয়োজন’ ছাড়া পুলিশে কর্মরত সব সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে রাজপথের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপির অভিযোগ তাদের ওপর পুলিশি দমন নিপীড়ন চলছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ তাদের আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ২২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ ২১৮ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অপর ১১ নেতাকর্মীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর জিআর শাখা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের সাব-ইন্সপেক্টর রিপন মিয়া আসামি দুলুকে কারাগারে আটক রাখার ও বাকি ১১ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম আলী হায়দার ১১ জনকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। ওই ১১ জন হলেন- ভোলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, মাকছুদুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, আবির ইসলাম সাত্তার, তাজ মোহাম্মদ খান ওরফে মামুন, শিমুল মিয়া, সোহেল, মোস্তাক হোসেন মুন্না, আব্দুল মান্নান শেখ বাবু ও শাহীনুর রহমান।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে মঙ্গলবার রাতে গুলশানের বাসা থেকে তুলে নেয় ডিবি পুলিশ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজু, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তোফাজ্জল হোসেন মফা, কালিয়াকৈর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সরকার তুহিন, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সেলিমসহ ৫ জনকে, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল-আমীন, রাজশাহীর পবা উপজেলা কৃষক দলের নেতা মো. রবিউল ইসলাম ও দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাকে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে বিএনপি নেতাদের আটক প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভাঙচুর, অগ্নিসন্ত্রাস, অস্ত্র ও খুনের মামলায় আগে থেকে যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন করে গ্রেপ্তারের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’ গতকাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ২০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক জানান, ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সারা রাত জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার সাতটি থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে এসব অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে দাবি করে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা বলেন, পুরোনো বিস্ফোরক আইন ও নাশকতার অভিযোগে থাকা মামলাগুলোর ফলোআপ নিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।
এসব অভিযানে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন অভিযোগ করেন, বিএনপির সমাবেশে যেতে বাধা দিতেই রাতভর নেতাকর্মীদের বাড়িতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৪ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন মুন্সি, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ, সোনারগাঁর সাদিপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য মো. হারুন, যুবদল কর্মী কাউসার আহমেদ রানা, মো. মেহেদী, মো. জাহিদ, সোনারগাঁর মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাসান, আড়াইহাজার সাতগ্রাম ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মিয়া, একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফরহাদ খন্দকার, রূপগঞ্জের চনপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাবু, ফতুল্লার বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হারুন, নাসিকের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক জানান, গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি বসায় পুলিশ। গতকাল সকালে মহাসড়কের মৌচাক ও সাইনবোর্ড পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা যায়, চেকপোস্টগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ও চালকরা কে, কোথায় যাচ্ছে তা জানতে চান। বাসে যাত্রীদের ব্যাগ, ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর ও পেছনের ব্যাকডালা তল্লাশি করা হয়।
ধামরাইয়ে ৯ জন গ্রেপ্তার, ১৫ বাস আটক
ধামরাই প্রতিবেদক জানান, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ধামরাইয়ে বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযানে ইউপি সদস্যসহ বিএনপির ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ইসলামপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালায়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়া থেকে সমাবেশে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১৫টি বাস আটকে দেওয়া হয়। ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস জানায়, নাশকতা মামলা ও আশুলিয়া থানায় গাড়ি পোড়ানো মামলায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও দাবি করেছেন, প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থান থেকে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তারা গণতান্ত্রিক কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারছেন না। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। গত ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে জামায়াতের ৪০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি, জামায়াতের ওই নেতাকর্মীদের সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ১২ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জামায়াতের জেলা সেক্রেটারিকে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির এবং শিবিরের জেলা সেক্রেটারিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ। তার আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শাহবন্দর এলাকায় গোপন বৈঠক করার অভিযোগে মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও জেলা সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৮ অক্টোবর কুড়িগ্রামে জেলা জামায়াতে ইসলামীর ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করে কুড়িগ্রাম সদর ও উলিপুর থানা পুলিশ। এর আগে চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই কাছে। নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে অর্থপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে, সভা সমাবেশ করবে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ ধরনের কর্মসূচি থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।
কঠোর অবস্থানে পুলিশ
গত মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্স থেকে নাশকতা ও দাঙ্গা দমনে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ সুপার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘পুলিশ সুপারদের অনেকেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে করণীয় সম্পর্কে আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা চান।’
এ বিষয়ে পরে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যা কিছু করা প্রয়োজন সবই করতে হবে। এর জন্য যানবাহনসহ ও যেসব সরঞ্জাম প্রয়োজন সেটা চাহিদা আকারে লিখিতভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে হবে।
এরপর সেটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন ঘিরে কোনোরকম অরাজকতা যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারেও বিশেষ নজর দিতে হবে। ইউনিটের কোনো কর্মকর্তাকে তার এলাকার বাইরে যেতে হলে তদারকি কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন রেঞ্জ ডিআইজি গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে এবং নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা বিরাট চ্যালেঞ্জের কাজ হবে। আমরা এ সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে চিরুনি অভিযান, ব্লক রেড অভিযান, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি, টহল জোরদার করাসহ মাঠপর্যায়ের পুলিশকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোর্সে ছুটি বাতিল করেছি। ওসি ও এসপিদের ঊর্ধ্বতন তদারকি কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া নিজ নিজ ইউনিটের বাইরে অবস্থান না করার নির্দেশনা দিয়েছি।
এদিকে পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তাই ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক মোতায়েনের জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।’ এই টিমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশ লাইন্সের ২০০ জন করে সদস্য থাকবেন।
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের তফসিলের আগে ও পরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রত্যেকটি ব্যারাকে থাকা সদস্যদের মধ্য থেকে প্রতিদিন ৬০০ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। ৩০০ জন করে সদস্য দুই শিফটে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। যাতে তারা নির্দেশ পাওয়ার ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে যেকোনো ঘটনাস্থলে যেতে পারেন। শুধু ঢাকা নয়, সব বিভাগীয় শহরেও ব্যারাক ও পুলিশ লাইন্সগুলোয় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এপিবিএন সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, এপিবিএন বা দাঙ্গা পুলিশের ৩৫০ জনের একটি দলকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে। এই দলটিও যাতে নির্দেশ পাওয়ার ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে রাজধানীর যেকোনো স্থানে পৌঁছাতে পারে সে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনীয় যানবাহন, জ্বালানি, গাড়িচালক, আর্মস, অ্যামুনেশন ও অন্যান্য সামগ্রীও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এপিবিএন সূত্র জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পর জরুরি সভা করে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পারবে এমন দুটি টিমকে সব সময়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এপিবিএন সদর দপ্তর ঢাকার ব্যাটালিয়নগুলো থেকে ৩০০ জন এবং ঢাকার বাইরের ব্যাটালিয়ন থেকে ৫০ জন করে সদস্যকে সার্বক্ষণিক নিজ নিজ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে স্ট্যান্ডবাই রাখছে। এপিবিএন-১ উত্তরার ৯০ জন, এপিবিএন-২ ময়মনসিংহের ৫০ জন, এপিবিএন-৫ উত্তরার ১০০ জন (একজন এএসপিসহ), এপিবিএন-১১ উত্তরার ৬০ জন, এপিবিএন-১২ উত্তরার ৫০ জনসহ মোট ৩৫০ জন সদস্য প্রতিদিন স্ট্যান্ডবাই থাকছে। তারা যেকোনো ইউনিট থেকে মেসেজ পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে দাঙ্গা দমনে মাঠে যেতে প্রস্তুত বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।