প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ২০:২২ পিএম
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাতিল করেছে সরকার। বুধবার (১৮ অক্টোবর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ জনস্বার্থে বাতিল করা হলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী তিন বছরের জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। সেই হিসেবে এই পদে তার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হওয়াতে এক বছরের বেশি সময় আগেই তাকে পদ ছাড়তে হচ্ছে।
নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী।
গত ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ৪৮ নদীর দখল ও দূষণের সমীক্ষা প্রকল্প শেষ করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। এ ঘটনায় চলতি বছর ১৮ জানুয়ারি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিদিনের বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই সমীক্ষা প্রকল্পের পাওয়া দখলদারদের নাম ও তালিকা ডাটাবেইজ ও ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলতে ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। চার বছর সমীক্ষা চালিয়ে ৪৮টি নদী দখলে ৩৮ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এ ছাড়া পরিবেশবিদ ও গবেষকদের আপত্তির মুখেই গত ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে নদ-নদীর তালিকা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। এই তালিকায় নদনদীর সংখ্যা এক হাজার ৮টি। দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার। পরিবেশবিদদের অভিযোগ ছিল, নদ-নদীর যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে, সেটি ভুলে ভরা। অনেক নদীর ক্ষেত্রে উৎসমুখ, উৎপত্তিস্থল, গতিপথ, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখ করা হয়নি। একই নদীর নাম এসেছে একাধিকবার। আবার কোথাও কোথাও এলাকার নামকে নদীর নাম বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র জলাশয়কেও নদী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তত ৫৫টি নদীর ক্ষেত্রে উৎসমুখ ও দৈর্ঘ্য ভুল লেখা হয়েছে। আবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অসংখ্য নদী।
সম্প্রতি চাঁদপুরে নদী দখলে একজন নারী মন্ত্রীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনাও হয়। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে তার অপেশাদার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
হঠাৎ সরকার কেন নিয়োগ বাতিল করেছে- জানতে চাইলে ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘কেন বাতিল করা হয়েছে আমি জানি না। সরকার নিয়োগ দিয়েছিল, আবার সরকারই বাতিল করেছে। এটা তাদেরই এখতিয়ার।‘
একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বলার জন্য বাতিল হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি লিংক করব না। তবে চাইলে লিংক করতে পারেন। কিন্তু আমি লিংক করতে পারি না। যে কথা বলছি, মন্ত্রী জড়িত। আজকে এক পত্রিকা থেকে ফোন করেছিল, আমি তাদেরও বলেছি, দুদককে ইনভেস্টিগেশন করতে হবে। আমি যে কথা বলেছিলাম, সেটাতে স্ট্যান্ড করি। সেটা থেকে এক চুলও সরে যাচ্ছি না।‘