প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:১৭ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ২০:০৭ পিএম
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ফাইল ছবি
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, পূজা আসন্ন, সেসময় যাতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন না হয়, যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা যায়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজর রাখবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছি। এটি নিশ্চিত করতে ডিসি-ইউএনওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১২তম সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ। বিশ্বের তুলনায় আমরা ভালো অবস্থানে আছি। মুসলিম অধ্যুষিত অন্যান্য দেশে যেভাবে জঙ্গিবাদের উত্থান আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সেই জঙ্গিবাদকে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর এ রকম কিছু হয়নি। ভবিষ্যতেও যাতে না ঘটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে। জনগণও চায় না এমন আর ঘটুক।’
হুন্ডি ব্যবসার কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানান মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, এই ব্যবসাকে বন্ধ করার জন্য আরও তৎপর হওয়া এবং কীভাবে বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে আমরা বলেছি। জুয়ার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। পত্রপত্রিকায় যেসব তথ্য এসেছে সেই আলোকে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি। তিনি মনে করেন, অল্প সংখ্যক এনজিওর কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এলার্মিং। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কিন্তু মিয়ানমার নিতে আগ্রহী ছিল, আমরা পাঠাতে রাজি হয়েছি। বিদেশিরাও কিছুটা রাজি করেছে। যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, কিছু এনজিও আছে তারা নিরুৎসাহিত করছে, গুজব রটায় যে সেখানে গেলে নিগৃহীত হবে, আবার নির্যাতন করা হবে। এই অপপ্রচারের কারণে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে নেগেটিভ হয়েছে। গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম বন্ধ করতে না পারার ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন মন্ত্রী। বলেন, বিদেশে থেকে সাইবার ক্রাইম বন্ধ করতে পারছি না। মিথ্যাচার ও গুজব রটানো হচ্ছে। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারকে (এনটিএমসি) আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য এবং সত্য তুলে ধরে প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুসারে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে তারা ইলেকশনের সিডিউল ঘোষণা করবেন। এরপর সরকার নতুন কোনো পরিকল্পনা নিতে পারে না, শুধু রুটিন ওয়ার্ক করে যায়। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে সব কিছু থাকে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা করবে, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যা যা করার তা পালন করবে। ভোটের পরিবেশ যাতে সুষ্ঠু থাকে সেটি নিশ্চিত করার জন্য সচেতন থাকবে।
একটি দল নির্বাচন বর্জন করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে কি না এ প্রশ্নে মোজাম্মেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। তারা জনগণের জন্য, কোনো দলের জন্য না। তারা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রী বলেন, এখন নির্বাচনের সময়, পত্রপত্রিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বাইরে থেকে অস্ত্র আসতে পারে। সেজন্য বিজিবিসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।