প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২২ ১৮:৩৮ পিএম
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল
দেশে এই মুহূর্তে বিদেশি ঋণের কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আইএমএফ সংস্কারমুখী কিছু প্রজেক্টের কথা সব সময় বলে থাকে। তবে ঋণের বিষয়ে আইএমএফ কিংবা সরকার কোনো পক্ষই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি।
বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি অর্থনৈতিক ও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মহামারীর পর রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের অভিঘাতে বাংলাদেশও যখন ভুগছে, তখন আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে মতবিনিময় করে।
আইএমএফের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যে চাঁদা পরিশোধ করে, তাতে ঋণের কোটা ১০০ কোটি ডলার। এর সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বাংলাদেশ এক বছরে ঋণ নিতে পারে।
চলমান সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশে আইএমএফের কাছ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চাইছে বলে খবরও এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফেরর একটা কনসালটেটিভ কমিটি বাংলাদেশে আছে। তারা সরকারকে পরামর্শ দেন, সরকারও তাদের পরামর্শ দেয়। তারা যে আসছে, আমাদের কাছে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাবনা দেয়নি। আমরাও তাদের কোনো ফরমাল প্রস্তাবনা দিইনি। এই পর্যন্ত হচ্ছে আইএমএফ সংক্রান্ত জবাব।’
আইএমএফফ সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রস্তাব করেছে বলে যে খবর এসেছে- সে বিষয়ে প্রশ্নে তিনি আবারও বলেন, ‘আমরা আইএমএফের কাছে কোনো প্রকার অর্থ নেওয়ার জন্য আবেদন করিনি। তারাও প্রস্তাব দেয়নি।’
তিনি বলেন, আইএমএফ মাঝেমধ্যেই আসে। দেখাশোনা করে যায়, তাদের যে পরামর্শ থাকে সেটি দিয়ে যায়। তাদের যে পরামর্শ তা সরকারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপকারি। সংস্কারমুখী কিছু প্রজেক্টের কথা সব সময় বলে থাকে। বাজেটেও অনেক কমিটমেন্ট করেছি, সেগুলো সম্পন্ন করতে পারলে দেশের জন্য ভালো। এ সমস্ত প্রস্তাব পেলে আমরা অবশ্যই গ্রহণ করব।
আইএমএফ’র বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়ে দ্বিমত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ বাংলাদেশে আসছে, এটা একটা পরামর্শক কমিটি। তারা পরামর্শ দেন, আমরাও তাদের পরামর্শ দেই। তারা আমাদের কাছে কী জন্য আসছে, সেটি নিয়ে ফরমাল কিছু আমাদের বলেনি। আপনাদের অনেকের মনে হয়ত সংশয় কাজ করে যে, আমরা অনেক কিছু নিয়ে নেবো বা চুক্তি করব। এ ধরনের কিছু আমাদের কাছে আসেনি, আসলে জানতে পারবেন। আমরা এমন কোনো প্রকল্প বা ফান্ডিংয়ে যাবো না, যেগুলো আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি হয়। স্বার্থের পরিপন্থি কিছু করব না, সেটি নিশ্চিত করতে পারি।
মুস্তফা কামাল বলেন, রিজার্ভের বিষয়টি হলো বিভিন্ন দেশ যেভাবে করে, যেভাবে হিসাব করা হয়, আমরা সেভাবেই হিসাব করেছি, আমরা সেভাবেই হিসাব করে যাবো। আইএমএফ আমাদের যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে, সেই পরিমাণ টাকা কি তারা পায়নি? তারা বলতে পারবে না, একদিন পরে তাদের টাকা পেমেন্ট করেছি। সুতরাং তারা নিশ্চিত থাকবে যেসব ঋণ আমাদের দিচ্ছে বা দেবে সেসব বিষয় নিয়ে। আমরাও তাদের বার বার আমাদের দিক থেকে আশ্বস্ত করেছি, আমাদের ঋণ দিলে তাদের কখনো সেটা মাফ করতে হবে না। আমাদের ঋণ শোধের ক্যাপাবিলিটি ভালো। আমরা সব সময় পেমেন্ট করে আসছি। আমরা পেমেন্টে কখনো দেরি করিনি।