× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজউকের নীতি শিথিল

ট্রাফিক ছাড়পত্র ছাড়াই হচ্ছে বহুতল ভবন

রাশেদুল হাসান

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১০:১৭ এএম

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৩৫ এএম

 ট্রাফিক ছাড়পত্র ছাড়াই হচ্ছে বহুতল ভবন

নতুন বহুতল ভবন ও আবাসিক এলাকা তৈরি হলে যেকোনো এলাকার যানবাহন চলাচল ও ভ্রমণ চাহিদা বেড়ে যায়। এতে সড়কের নেটওয়ার্ক ও এর ‍বিদ্যমান সক্ষমতা, পার্কিং ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে যান চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে ১০ তলা বা তারও বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণ ও আবাসন প্রকল্পের জন্য ট্রাফিক ছাড়পত্র নেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নীতিতে। তা সত্ত্বেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) শিথিলতায় গত এক দশকে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী পাঁচ জেলায় এ ছাড়পত্র নেওয়ার হার কমতে কমতে এখন প্রায় শূন্যে নেমেছে।

ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ডিটিসিএ জানায়, ২০১৯ সালে রাজউক ভবনের নির্মাণ অনুমোদনে এ ছাড়পত্র গ্রহণের আবশ্যকতা শিথিল করে। এ ছাড়া ছাড়পত্র না নিলে শাস্তির বিধান না থাকা এবং তখন থেকে তদারকির অভাবেই এ ছাড়পত্র নেওয়ার হার কমছে। শুধু বেসরকারি মালিকরা নন, সরকারি ভবন ও আবাসিক এলাকা তৈরির ক্ষেত্রেও এ ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি মানা হচ্ছে না বলে জানায় সংস্থাটি।

ডিটিসিএ কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তাদের আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরে ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৬২৮টি বহুতল ও ৪১টি আবাসিক প্রকল্পকে যানবাহন চলাচল বা ট্রাফিক ছাড়পত্র সনদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২-১৩ সালে সর্বোচ্চ ১৪৪টি ভবনের মালিক এ ছাড়পত্র গ্রহণ করেছেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিবছর এ ছাড়পত্রের সংখ্যা ৬৮-এর চেয়ে বেশি থাকলেও গত ২০১৯ সালের শুরুতে রাজউক ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনে এ ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা তুলে নিলে এর হার নামতে শুরু করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১০টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩টি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে মাত্র একটি বহুতল ভবন এ ছাড়পত্র নেয়।

২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাপকসংখ্যক সরকারি ও বেসরকারি মালিকানায় ব্যাপক বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে তাদের কেউ এখন এ ছাড়পত্র নিচ্ছে না। রাউজকের হিসাবে শুধু রাজউকের আওতাধীন সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও অন্যান্য এলাকায় ৫৯০ বর্গমাইল এলাকায় তারা ২০১২-১৮ পর্যন্ত ৭৫০ এর অধিক বহুতল ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

জানা যায়, সংস্থাটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট সংখ্যা ও সর্বমোট মেঝের ক্ষেত্রফল অনুযায়ী পার্কিং প্ল্যান, প্রবেশ-নির্গমন পথ, ভবনের ২৫০ মিটার ব্যাসার্ধে ভূমি ব্যবহার, বাস বে’র লোকেশন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্রাফিক প্রভাবগত মূল্যায়ন প্রভৃতি বিভিন্ন সূচক ও স্টাডির ভিত্তিতে ট্রাফিক ছাড়পত্র দেয়। আবাসিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভূমি ব্যবহার, সড়কের নেটওয়ার্ক, পার্কিং প্ল্যান, সেক্টর অনুযায়ী লে-আউট প্ল্যান পর্যালোচনার ভিত্তিতে ট্রাফিক সার্কুলেশনসংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

এ ছাড়পত্র গ্রহণ করতে একজন গ্রাহককে সবচেয়ে ছোট ৮০০ বর্গমিটার আয়তনের ভবনের জন্য ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু ৩০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের ভবনের জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়পত্র ফি দিতে হয়। এ ছাড়া প্রতি একর নতুন আবাসিক প্রকল্পে ছাড়পত্রের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা ও নবায়নের জন্য প্রতি একর ৫০০ টাকা করে ছাড়পত্র ফি দিতে হয়। 

গত ১৮ জুন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক সাবিহা পারভীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আইন ২০১২ এর ৯(চ)-এর উপধারা অনুযায়ী বৃহত্তর ঢাকায় বহুতল ভবন ও আবাসন প্রকল্পে যানবাহন প্রবেশ-নির্গমন ও চলাচল-সংক্রান্ত নকশায় ডিটিসিএর অনুমোদন ও এ-সংক্রান্ত ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এ ছাড়পত্র না নিলে কী শাস্তি হবে তা বলা নেই কিংবা এ-সংক্রান্ত কোনো বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, শুধু বেসরকারি নয়, সরকারি ভবন ও আবাসিক এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক সার্কুলেশন ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। আবার যারা গ্রহণ করেছে সেসব এলাকায় যানবাহন চলাচলে কী প্রভাব ফেলেছে তার প্রভাব বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া লোকবল যেমনÑ সার্ভেয়ার, পরিদর্শক ও প্রকৌশলী না থাকার কারণে মাঠ পর্যায়ে ভবন ও আবসিক এলাকাগুলোতে মনিটরিংয়েও ব্যর্থ তারা। 

তিনি জানান, ১০ তলা ও তার চেয়ে উঁচু ভবন ছাড়পত্রের আওতায় আনা হলেও তার ছোট ছোট বাণিজ্যিক ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও প্রচুর যানবাহন চাহিদা থাকে। কিন্তু তারা আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছে, তাই আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগির বিষয়টি আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। 

এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এসএম সালেহ উদ্দিন মনে করেন, ট্রাফিক ছাড়পত্র ছাড়াই ভবন ও আবাসিক এলাকা গড়ে উঠলে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। 

তিনি বলেন, ‘পরিবহনের জন্য ঢাকা শহরে আজকে যে ১০ শতাংশ জায়গা তার মূল কারণ পরিবহন পরিকল্পনাকে অবহেলা করে ভূমির ব্যবহার পরিকল্পনা করা। এখানে ঘরবাড়ি বানানো হচ্ছে; কিন্তু এর সঙ্গে প্রতিটি ভবনের বাসিন্দাদের জন্য কী পরিমাণ পরিবহন দরকার, রাস্তা কতটুকু দরকারÑ তা সমন্বয় করা হচ্ছে না। আজকে শহরে পরিবহনের চাহিদা আছে, কিন্তু দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। এর ফলে বাস নামানো যাচ্ছে না, ছোট যানবাহন ও প্রাইভেট কার নামছে সড়কে। একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা