প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:১৮ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:০৯ পিএম
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অতিথিরা। প্রবা ফটো
দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, ডলারের দাম ডিভ্যালুয়েশন, ক্লাইমেট চেঞ্জ ইত্যাদির কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়লেও দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেসব করপোরেট কোম্পানি বা বড় বড় ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থিতিশীল করে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এসব কথা বলেন তিনি। সচেতনতামূলক প্রতিযোগিতাটি যৌথভাবে আয়োজন করছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
প্রতিযোগিতার আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রেস ব্রিফিংটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা।
আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিদপ্তর সব সময় তাদের অভিযান পরিচালনা করছে জানিয়ে ভোক্তা ডিজি বলেন, আলু ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য উৎপাদক পর্যায় থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত অধিদপ্তর লিংকেজ করে দিচ্ছে, যাতে সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করা যায়। তবে শুধু আলুর দাম কমালেই হবে না, কৃষকদের উৎপাদন খরচও বিবেচনা করতে হবে। সরকার বাধ্য হয়ে ডিম আমদানি করছে। যারা ডিমের দাম নিয়ে কারসাজি করছে তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্যই ডিম আমদানি করা হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার আইনের কিছুটা দুর্বলতার পাশাপাশি জনবল সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৭টি জেলায় অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নেই। তারপরও সারা দেশে প্রতিদিন অধিদপ্তরের ৪০-৫০টি টিম দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু বিক্রেতা নয় ক্রেতাসহ সাধারণ জনগণকেও ভয়েস রেস করতে হবে। যাতে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। সেই লক্ষ্যেই ভোক্তা অধিকার সচেতনতা বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে।
হাসান আহমেদন চৌধুরী কিরণ বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ ও জেল-জরিমানা বা শাস্তি দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। ঈদ, পূজা-পার্বণ বা কোনো উৎসব এলেই সুযোগ বুঝে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। জোগান থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে চাহিদা বাড়লে মূল্য বাড়ানো উচিত নয়। তবে দেশে এখনও অনেক মানবিক ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট কোম্পানি রয়েছে যারা জনগণকে স্বস্তি দিয়ে দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, যশোরের মাংস ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম স্ব-উদ্যোগে যেভাবে মাইকিং করে গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করছে তা সিন্ডিকেট, মজুদদার ও অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় একটা উদাহরণ। তিনি চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন লাভ রেখেও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা যায়।
মাংস ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামসহ সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারিভাবে স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কিরণ।
বড় বড় করপোরেট কোম্পানির বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রির জন্য সরকারের স্বীকৃতি পেলে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা উপস্থিত ছিল। আগামী সপ্তাহে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল এবং পরবর্তিতে গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে পাবে ২ লাখ টাকা এবং রানারআপ দল পাবে ১ লাখ টাকা। গত ১১ আগস্ট সচেতনতামূলক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি।