প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:১৬ পিএম
‘দখলের গ্রাসে শুটকি নদীর ২৬ কিলোমিটার : ৫০ বছরের নদী লুট ঠেকাতে নাগরিক আহ্বান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। প্রবা ফটো
হবিগঞ্জের জেলার বানিয়াচং উপজেলা থেকে প্রবাহিত শুটকি নদী। পরে নদীটি উজানে খোয়াই এবং ভাটিতে যমুনা নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নদ-নদীর তালিকায় এই নদীর নাম রয়েছে। তবে দখল হয়ে যাওয়া নদীর তালিকায় নাম নেই। নেই দখলদার ইয়াহিয়া ফিশারিজ বা এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান আহমদ রাজার নামও। তাই শুটকি নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ এটিকে নদীর মর্যাদা দেওয়া এবং আদালত ঘোষিত ‘জীবন্ত স্বত্ত্বা’ বিষয়টি কার্যকরের তাগিদ দিয়েছে নদী সংরক্ষণকর্মীরা।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দখলের গ্রাসে শুটকি নদীর ২৬ কিলোমিটার : ৫০ বছরে নদী লুট ঠেকাতে নাগরিক আহ্বান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রবন্ধটি উত্থাপন করেন নোঙর বাংলাদেশ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন সামস। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং ইনিশিয়েটিভ ফর পিস। এতে সভাপতিত্ব করেন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন ও ইনিশিয়েটিভ ফর পিসের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশ-পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শুটকি নদী দখলদারিত্বের একটি প্রতিনিধিত্ব মাত্র। সারা দেশে এমন আরো বহু ঘটনা ঘটছে। নদীকে দেখার জন্য আমাদের আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও সেরকমভাবে তৈরি হয়নি। শীতলক্ষ্যার পাড়ে আমরা এখনও দেখছি শুধু সিমেন্ট কারখানা। জিডিপি বৃদ্ধির সঙ্গেও নদী দখল জড়িত। কিছুদিন আগে এক মন্ত্রী বললেন, এত চওড়া নদীর দরকার নেই। নদী ভরাট করে জমি বানাতে হবে। অতীতে নদী নিয়ে আন্দোলনকারীকে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে এদেশে।’
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশের সামগ্রিক নদী প্রশাসনের অবস্থা বেশ ঘোলাটে। ভরাট, দখল, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সবই যেনো টাকার খেলা। নদী রক্ষা করতে হলে সাহসিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, আইনের অনেক অপব্যাখ্যা হচ্ছে। কিন্তু সংসদে নদীর স্বার্থের পরিপন্থী কোনো আইন এখনও পাশ হয়নি। নদী রক্ষা কমিশনের তেমন ক্ষমতা নেই, ফান্ডও নেই। প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের দখল থেকে উদ্ধারকাজও ঠিকমতো হয়নি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, আরডিআরসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, চেয়ারম্যান সুমন শামস প্রমুখ।