প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৪৪ পিএম
ফাইল ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
ডিপিইর একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে খাতা মূল্যায়ন ও ফল ব্যবস্থাপনা বাবদ অর্থ প্রদানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এত দিন আটকে ছিল। এ কারণে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ প্রাথমিক নিয়োগে সাড়ে ১১ লাখ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। এতসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নেই। এজন্য বুয়েটকে নিয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর জন্য যেহেতু অর্থ ব্যয় হবে তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল ব্যবস্থাপনায় বুয়েটের গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত। এজন্য গতবারের মতো এবারও বুয়েটকে নিয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার অর্থব্যয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে। আশা করছি, শিগগিরই অনুমোদনের চিঠি হাতে পাব। চিঠি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে।’
অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অক্টোবরে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না।’
এবারই প্রথম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বিভাগ ধরে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। গুচ্ছভিত্তিক এ নিয়োগে তিন ধাপে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষাও আলাদাভাবে নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ২৩ মার্চ ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ১৮ জুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিন ধাপে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করেছেন ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩১ জন চাকরিপ্রার্থী। এর মধ্যে প্রথম ধাপে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ জন। দ্বিতীয় ধাপে ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে আবেদন করেছেন ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৩৮ জন। তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৮ জন।
ডিপিই সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত নিয়োগের জন্য আট বিভাগের অনুমোদিত শূন্য পদের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৬৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ১ হাজার ৩৬৫; আর সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে, ৪১১টি। এ ছাড়া বরিশালে ৮৭১, রংপুরে ৯৮৮, খুলনায় ৯৪০, ময়মনসিংহে ৫৯৯, রাজশাহীতে ১ হাজার ৫৮ এবং চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৩১টি।