প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২২ ২০:২৭ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২২ ২০:৫২ পিএম
গত ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্ল্যাক আউট হয়। ছবি : প্রবা
দিনভর নানা নাটকীয়তা পেরিয়ে সন্ধ্যার পর ব্ল্যাক আউটের জন্য দায়ী পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) দুই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার সকালে তদন্ত কমিটি বিদ্যুৎ বিভাগে প্রতিবেদন জমা দিলে রাত পৌনে ৮টার দিকে অফিস আদেশ জারি করে পিজিসিবি। দুই কর্মকর্তা হলেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসপিএমডি, ঢাকা-১) আল্লামা হাসান বখতিয়ার এবং এসপিএমডি, ঢাকা-১-এর সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, শুধু পিজিসিবি নয়, বিতরণ কোম্পানিরও কয়েকজনের দায় পাওয়া গেছে। তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সকালে নির্দেশ দিলেও পিজিসিবি সিদ্ধান্ত নিতে দিন পার করে দেয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৩টায় অফিস শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই অফিস আদেশটিও জারি করার কথা ছিল। কিন্তু এ দিন এই নিয়ম ভেঙ্গে পিজিসিবি সন্ধ্যার পরে আদেশটি জারি করে।
পিজিসিবির জেনারেল ম্যানেজার (মানবসম্পদ) রূপক মো. নসরুল্লাহ জাহেদী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেতে তাদের দেরি হয়েছে। তাই রাত পৌনে ৮টার দিকে অফিস আদেশ জারি করা হয়।
পিজিসিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের বরখাস্তের পক্ষে নন তারা। কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, নানা ইস্যুতে এভাবে কর্মকর্তাদের বরখাস্তের রীতি শুরু হলে সামগ্রিকভাবে সকলে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শেষ পর্যন্ত অফিস আদেশটি কোনোভাবে বাতিল করা যায় কি না, দিনভর সেই চেষ্টা করে পিজিসিবি। এর আগে ২০১৮ সালে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়েও পারেনি জ্বালানি বিভাগ। প্রকৌশলীরা আন্দোলনের হুমকি দিলে তৎকালীন জ্বালানি সচিব নিজে গিয়ে এই সমস্যার সামাধান করেন। একই সঙ্গে সে সময় এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও তাদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
সাময়িক বরখাস্ত করার পর চূড়ান্তভাবে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। চূড়ান্ত বরখাস্ত করার আগে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। এক্ষেত্রে কোম্পানি আইনে যেসব বিধিবিধান রয়েছে তা প্রতিপালন করা হবে।
গত ৪ অক্টোবর ব্ল্যাক আউটে বেলা ২টা ৫ মিনিট থেকে টানা সাত ঘণ্টার বেশি দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তদন্তের জন্য গঠন করা হয় কমিটি। কমিটির প্রধান পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (পিঅ্যান্ডডি) রবিবার মো. ইয়াকুব এলাহী চৌধুরী অন্য সদস্যদের নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তিনটি কারণে ব্ল্যাক আউটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনের তথ্য বলছে। এর মধ্যে দুটি কারিগরি এবং একটি মানুষের ভুল অথবা দায়িত্বে অবহেলা বলে তদন্ত কমিটি মনে করছে। তবে এই ভুল না করলে ওই দিন গ্রিডে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না বলে মনে করছে কমিটি।
এ ঘটনায় পিজিসিবি ছাড়াও মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। পিজিসিবির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও বাকি দুই কমিটির প্রতিবেদন পেতে আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তিন প্রতিবেদন পাওয়ার পর গ্রিড সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণ করে সুপারিশ করা হবে বলে তাদের ভাষ্য।
প্রবা/টিকে/টিই