প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:৩২ পিএম
বহুল আলোচিত ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ফোকাস বাংলা ফটো
বহুল
আলোচিত ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বুধবার
(১৩ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন তথ্য ও প্রযুক্তি
প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের
৪২ ধারা অনুযায়ী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবে পুলিশ। এ
ছাড়া সাইবার সংক্রান্ত মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি
১৪ বছরের জেল ও কোটি টাকা জারিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনে ১৭, ১৯, ২৯ ও
৩৩ এই চারটি ধারা জামিন অযোগ্য রাখা হয়েছে। তবে এই আইনে করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত
হলে সে জন্য বাদীকে শাস্তি পেতে হবে।
বিলের
ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ৪২ ধারাসহ বেশ কিছু ধারার বিষয়ে আপত্তি জানান এবং আগামীতে আইনের
অপপ্রয়োগ হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক
সমাজের প্রতিনিধিরা ৪২ ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।
এর
আগে জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও স্বতন্ত্র সংসদ
সদস্যরা। তারা বিলের ৪২ ধারাসহ বেশকিছু ধারার বিষয়ে আপত্তি কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে
আগামীতে আইনের অপপ্রয়োগ হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বিলের
বিভিন্ন ধারার সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বলেন, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা
এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের স্বীকৃতি সংবিধানেই দেওয়া হয়েছে। অথচ এই বিলের বিভিন্ন ধারায়
সংবিধান স্বীকৃত এসব অধিকার খর্ব করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। একাধিক সদস্য
বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও তল্লাশির বিধান সংশোধনের দাবি জানান।
এসব
সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সংবিধান স্বীকৃত হলেও অবারিত নয়। স্বাধীনতা মানে কিন্তু অন্যের অধিকার ক্ষুন্ন করা
নয়। আপনার স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা বলা নয়। অন্যকে অসম্মান করা নয়। নারীকে অশ্লীল
কথা বলা নয়। এসব বিষয় নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি
বলেন, আইনটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিরোধী সদস্যরা একমত পোষণ করছেন। স্বচ্ছতা, জবাবহিদিতা
ও নিরাপদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাইবার নিরপত্তা আইনের বিকল্প নেই।
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলা হয়। এরপর বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ওই বিলের ৪২ ধারায় বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া আছে পুলিশকে। এখানে সংশোধনী এনে বলা হচ্ছে, এই ধারায় সাব ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তার জায়গায় পুলিশ পরিদর্শক (ইনপেক্টর) পর্যায়ের কর্মকর্তা বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানালেও তা বহাল রাখা হয়েছে।