যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:২৩ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:০৬ পিএম
মালিকদের ‘প্রেসক্রিপশন’ অনুযায়ী সরকার বাস ও গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটি বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী বাস ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে বাস মালিকদের সংখ্যা অনুপাতে যাত্রী বা ভোক্তা প্রতিনিধি রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু দেশে ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে মালিক-শ্রমিক আর সরকার মিলেই ভাড়া নির্ধারণ করছে। এতে যাত্রী ও ভোক্তাদের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না। ফলে যাত্রীদের কল্যাণের কথাও বিবেচনা করা হয় না।
বুধবার (১৩ সপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে ‘সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার চাই’ শীর্ষক আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান তাওহিদুল হক লিটন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেসা খান, মহাসচিব মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মহসিন প্রমুখ।
লুৎফুন্নেসা খান বলেন, ‘বাস মালিক কারা আমরা সবাই জানি। তারা যাত্রীদের দুঃখ, কষ্ট নিয়ে মাথা ঘামাতে চান বলে মনে হয় না। রাজধানীতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে অস্বাভাবিক ভোগান্তি নিয়ে লাখ লাখ নগরবাসী প্রতিদিন যাতায়াত করছে। একদিকে ভাড়ার নৈরাজ্য, অন্যদিকে লক্কড়-ঝক্কড় বাস। ড্রাইভিং লাইসেন্স দুই নম্বর। কীভাবে পায়? এখানে দুর্নীতি আছে। এখানে মালিকপক্ষ দায়ী।’
লিখিত বক্তব্যে মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘সরকার পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ায় দেশের যাত্রীসাধারণ অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি শক্তিতে বলিয়ান হয়ে পরিবহন মালিকেরা ইচ্ছেমতো পরিবহন চালাতে গিয়ে এ সেক্টরে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা ব্যাপক হারে বাড়ছে। সরকার চেষ্টা করেও এই সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। কিন্তু সংশোধনীতে যাত্রী বা ভোক্তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।
পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করে বাস ও গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে বাস মালিকদের সংখ্যানুপাতে যাত্রী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার বিধান সংযুক্ত করার দাবি জানান সংগঠনটির মহাসচিব।