প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:২৫ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:৩৪ পিএম
মার্কিন দূতাবাসে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর এই গাড়িতে করে দূতাবাস ছাড়েন বরখাস্ত ডিএজি এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। সংগৃহীত ছবি
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে বরখাস্ত করার পর শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে তিনি সপরিবারে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্রয় না পেয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।
এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে অব্যাহতি দেওয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার জারি করা হলেও তা শুক্রবার জানাজানি হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আওয়ামী লীগের এক সভাতেও বিষয়টি জানান।
বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি না নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সরকারের পদে থেকে সরকার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন। সর্বশেষ তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে না জানিয়ে অপবাদ দিয়েছেন। সেই দোষে তিনি দোষী। আমরা তিন দিন অপেক্ষা করেছি, তিনি পদত্যাগ করেননি। সেজন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী এ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগাদেশ জনস্বার্থে বাতিলক্রমে তাকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’
এদিকে বিকালে একটি খুদেবার্তার মাধ্যমে এমরান আহম্মদ সংবাদমাধ্যমকে মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি জানান। খুদেবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন দূতাবাসে আজকে পুরো পরিবারসহ আশ্রয়ের জন্য বসে আছি। বাইরে পুলিশ। আজকে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমার ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে গত চার-পাঁচ দিন ধরে অনবরত হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার ভালোবাসার প্রতিদান দেয় জেল দিয়ে। আমার আমেরিকার কোনো ভিসা নেই। স্রেফ ৩টা ব্যাগে এক কাপড়ে আমার তিন মেয়েসহ কোনো রকমে বাসা থেকে বের হয়ে এখানে বসে আছি। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।’
তবে এমরান আহম্মদের গ্রহণ করার সুযোগ নেই বলে জানায় মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ সময়ে আমাদের কাছে অফার করার মতো কোনো তথ্য নেই।’
এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার পাঠানো পারিবারিক একটি ছবিতে দেখা গেছে, তিন সন্তানসহ পরিবারের ৫ সদস্য দূতাবাসের ওয়েটিং রুমে অবস্থান করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া পরিবাব নিয়ে বিকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আশ্রয়ের জন্য গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের দূতাবাসের মূল ফটকের পাশে একটি কক্ষে বসিয়ে রাখেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা দিকে একটি গাড়িতে করে পুলিশ প্রহরায় বেরিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে বিকালে মার্কিন দূতাবাসে গিয়েছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে গেছেন। কোথায় গেছেন তা তিনি জানাতে পারেননি।
রাত সাড়ে আটটার দিকে এমরান আহম্মদ একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি বাসায় যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে পুলিশ রয়েছে। এমরান আহম্মদ আরও জানান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাই মার্কিন দূতাবাসে গিয়েছিলেন। তবে তার কোনো ক্ষতি হবে না, সে বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েই বাসায় ফিরেছেন।
গত ২৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত ও সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১০০ জনেরও বেশি নোবেল বিজয়ীসহ ১৬০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই চিঠির প্রতিবাদ জানিয়ে আইনজীবীদের একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন ড. ইউনূসকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে। পরদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, চিঠিতে সই না করার বক্তব্য দিয়ে এমরান শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।