আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শতভাগ সাক্ষরতার মাইফলক ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ। খোদ সরকারি হিসাবই বলছে, এখনও দেশের ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। যাদের বয়স ৭ বছরের বেশি। প্রায় ৩ কোটিরও বেশি এই জনসংখ্যাকে সাক্ষর জ্ঞান দিতে আপাতত কোনো উদ্যোগও নেই সরকারের। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও এসে শতভাগ স্বাক্ষরতার স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়া রাষ্ট্রের জন্য বিরাট ব্যর্থতা। এটা প্রশাসন, আমলাতন্ত্র ও বিভিন্ন সময়ে থাকা সরকারেরও ব্যর্থতা। কারণ আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার, তা দেওয়া হয়নি। হয়তো এখন দেওয়া হচ্ছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
জাতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়তে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে নেই দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। এমন বাস্তবতায় আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সাক্ষরতার প্রসার’।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের নাগরিকদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সেই হিসাবে নিরক্ষর ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ।
চলতি বছর প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২২ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০২০ সালে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ আর ২০২২ সালে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সেই হিসাবে নিরক্ষরতার হার ছিল ২০১৮ সালে ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২০ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২১ সালে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ২০২২ সালে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ।
বিবিএসের এই তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বলছে, দেশে এখনও নিরক্ষর ৩ কোটির বেশি মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যুরোর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু এ কাজে তেমন গতি নেই।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য পরিচালিত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের জুনে। নতুন করে আরও ১০টি প্রকল্প নেওয়ার কার্যক্রম চলমান। প্রকল্প না থাকায় বর্তমানে সাক্ষরতা নিয়ে কোনো কার্যক্রম নেই।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা যদি শতভাগ বিদ্যুতায়িত করতে পারি, তাহলে শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত করতে পারব না কেন? এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে আমাদের ইচ্ছের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরক্ষরমুক্ত দেশ গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসেও সেই স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়া রাষ্ট্রের জন্য বিরাট ব্যর্থতা। এটা প্রশাসন, আমলাতন্ত্র ও বিভিন্ন সময়ে থাকা সরকারের ব্যর্থতা। কারণ আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার তা দেওয়া হয়নি। হয়তো এখন দেওয়া হচ্ছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, সাক্ষরতা ও উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি চিন্তা করা যায় না। বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মসূচির কারণে আগের তুলনায় সাক্ষরতার হার উত্তরোত্তর বাড়ছে। তবে এখনও প্রায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। শতভাগ জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর জ্ঞান দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।