প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:০৩ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:২১ পিএম
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ফাইল ফটো
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিচ্ছিন্ন কোনো ত্রুটি থাকলেও সামগ্রিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দায়িত্বশীল না হলে এর থেকে নিস্তার সম্ভব নয়। এ ছাড়া এডিস মশক নিয়ন্ত্রণে ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘তিনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) এমন প্রশ্ন তুলেছেন কি না আমি জানি না। কারণ চিকিৎসার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আমাদের হাসপাতালগুলো দেখবে। মশক নিধনের দায়িত্ব আমাদের মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো পালন করবে। সঙ্গে সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করবেন।’
২০১৯ সাল থেকে আমাদের এখানে ডেঙ্গু রোগের তীব্রতা লক্ষ করছি- এমন তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক বছর এটি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এ বছর মাত্রারিক্ত সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। যা আমাদের কাছে সত্যিকার অর্থে বেদনার, কষ্টের। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিচ্ছিন্ন কোনো ত্রুটি থাকলেও সামগ্রিকভাবে আমরা তদারকি করছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি হলো সব মানুষের অংশগ্রহণ। যেহেতু আমাদের এখানে ডেঙ্গুর মারাত্মক বিস্তার ঘটেছে, সেহেতু অধিকাংশ এডিস মশাই জীবাণু বহন করে। এখন এই মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনগুলো কাজ করছে। জনগণও আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছে, তাদরে অংশগ্রহণ আছে। কিন্তু যে পরিমাণ অংশগ্রহণ দরকার, আমার মনে হয়, সেটা হচ্ছে না। গত বছর পর্যন্ত রোগটি ঢাকাসহ শহরে এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার তা গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।’
দেশে মশা নিধনে সারা বছর কার্যক্রম চলে বলেও এ সময় দাবি করেন তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘তবে এখন চলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ। বর্ষকালের পরে তো এডিস মশা থাকে না, মানে খুবই কম থাকে। পাঁচ থেকে দশজন আক্রান্ত হতে পারেন মাসে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা মশা মারার কার্যক্রম চালাই। পৃথিবীতে যত মশা মরার কার্যকর ওষুধ আছে, সেগুলো আমরা স্প্রে করি। আর এমন কীটনাশক স্প্রে করতে পারব না, যাতে মশা মারতে গিয়ে মানুষ মরে যায়।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি যদি বাতাসেই মশাটি মেরে দিই, তাতে সব কীট-পতঙ্গ মরে যাবে। তাতে মানুষের ক্ষতি হবে। আমরা তো এটি করতে পারি না। হয়ত এমন স্প্রে করে দিতে পারব যে সারা বছর আর মশা আসবে না, কিন্তু মানুষ মরে যাবে। এ ব্যাপারে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’