× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : হায়দার আকবর খান রনো

মুক্তির সংগ্রাম মার্ক্সের আগেও ছিল, এখনও আছে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৩ ০৮:৫২ এএম

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৩ ১০:৩০ এএম

হায়দার আকবর খান রনো।

হায়দার আকবর খান রনো।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় নেতা হায়দার আকবর খান রনো। জন্ম ১৯৪২ সালের ৩১ আগস্ট কলকাতায় নানাবাড়িতে। তবে তার পিতৃভূমি নড়াইলের চিত্রা নদীতীরের বরশালা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র থাকার সময় কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন তিনি। মেধাবী ছাত্র হিসেবে সিয়েটো স্কলারশিপ পাওয়ার পর বৃত্তির পুরো টাকাই তিনি পার্টিকে দিয়ে দেন। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সরাসরি অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমতিয়ার শামীম। 

জন্মদিনের শুভেচ্ছা, রনো ভাই। ৮১ বছর পেরিয়ে আপনি ৮২-তে পা দিচ্ছেন। এই দীর্ঘ আট দশকে আপনি যা দেখেছেন, আপনার সামনে যা ঘটেছে-সেসবের মধ্যে কোন ঘটনাটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আন্দোলিত করেছে, একেবারে ভেতর থেকে পাল্টে দিয়েছে? 

ধন্যবাদ আপনাকে। ৮১ বছর পূর্ণ করলাম। তাই আমার জন্মদিন মানে, আমার জীবনের শেষ পর্ব আরও ঘনিয়ে আসছে। মৃত্যু নিয়ে চিন্তা আমি করছি না, কিন্তু এ কথাটা তো বলতে হয়, আমার জীবনের প্রায় সবটাই এখন অতীত। আমার এই আট দশকের জীবনে সবচেয়ে বড় ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ। শুধু আমার জীবনে কেন, আমার বয়সি সবার জীবনেরই সবচেয়ে বড় ঘটনা এটি। আমাদের সমকালীন ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবের, একই সঙ্গে সবচেয়ে রক্তপাতের অধ্যায় হচ্ছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ।

আপনি তো মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলেন কী করে? আপনার এই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে আপনার মা-বাবা ও পরিবার কীভাবে নিয়েছিল?

আমি জন্মই নিয়েছি একটা কমিউনিস্ট পরিবারে। কলকাতায় আমি যে ভাড়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির অফিস ছিল। আমার বাবা অবশ্য সরকারি চাকরি করতেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েতে, কিন্তু তিনি খুব সৎ ছিলেন। আর আমার নানা সৈয়দ নওশের আলী ১৯৩৭ সালে বাংলার প্রথম মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন কৃষক প্রজা পার্টি থেকে। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় উনি রিজাইন করেন। কারণ উনি জমিদারিপ্রথা উচ্ছেদের এবং আন্দামানে যারা রাজবন্দি আছেন, তাদের মুক্তির দাবি তুলেছিলেন। তিনি পাকিস্তান আন্দোলনকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সুভাষ বোসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। উনি যশোরের মানুষ, সেখানকার খুবই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি পাকিস্তান আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করলেন, সেহেতু এ দেশে আর থাকলেন না। কংগ্রেসে নেহরুর সঙ্গে বিরোধ হলে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হওয়ার পর তিনি সিপিএম-এর সঙ্গে ছিলেন। অবশ্য মৃত্যুর আগে, স্বাধীনতার পর তিনি আমার এখানে এসেছিলেন। আমি হাফপ্যান্ট পরার বয়সে, সেই ছোটবেলায় কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ, শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে, পুচাপাল্লি সুন্দরাইয়া- এদের আমাদের বাসায় দেখেছি। কাজেই বলতে পারেন যে একধরনের পারিবারিক আবহে থেকেই আমি কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছি। 

পূর্ব বাংলায় ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র ইউনিয়নের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আপনার তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সূত্র ধরে, মানে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের মধ্যেকার তাত্ত্বিক-আদর্শিক দ্বন্দ্বের সূত্রে আপনাদের মধ্যে ভাঙন এলো। আপনি চীনপন্থি অবস্থান নিলেন। এখন অর্ধশতক পরে ওই বিভাজনকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন? এর জন্য আসলে দায়ী কে? বাম রাজনীতিতে এর প্রভাবই বা কী?

কথা হলো, এই ভাঙনটা ঐতিহাসিকভাবেই অপরিহার্য ছিল। এটা আমার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষায় ঘটেনি, এই বিভাজন হয়েছে বিশ্বব্যাপী। ভারতেও হয়েছে। আমাদের এখানে এটা ছাত্র সংগঠনে আগে ঘটেছে। পরে তো পার্টিও ভাঙল। ছাত্র ইউনিয়ন যখন ভাঙে, তখন আমি জেলে ছিলাম। আমি মোট চারবার জেলে গিয়েছি। এটা ১৯৬৪ সালে জেলে যাওয়ার পর ১৯৬৫ সালের ঘটনা। এই ভাঙনটা কিন্তু আমরা চাইনি। যতটুকু জেনেছিলাম, তাতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমি ব্যক্তিগতভাবেও মনে করতাম, চীনের ভূমিকা অনেক বিপ্লবী। অন্যদিকে সোভিয়েত রাশিয়ার ভূমিকা সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপসমুখী। অতীতের দিকে তাকিয়ে আমি মনে করি, সিদ্ধান্তটা তেমন বেঠিক ছিল না। চীনের কম্যুনিস্ট পার্টির ১৯৬৩ সালের ১৪ জুনের একটি চিঠি আছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ চিঠি। সেই চিঠিটা আমাদের খুব উদ্বেল করেছে। তৎকালীন ওই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিটা সঠিক ছিল। কিন্তু পরে চীন তো উল্টাপাল্টা করল। যা হোক, ডিভিশনটা কিন্তু পার্টির নেতৃত্বই করেছিল। আমি এবং আমার সঙ্গে চীনপন্থী সিনিয়র রাশেদ খান মেনন, কাজী জাফর আহমদ, আইয়ুব রেজা চৌধুরী- আমরা সবাই তখন কিন্তু জেলে ছিলাম। আর সোভিয়েত রাশিয়াপন্থী যারা, তারা বলতে গেলে প্রায় সবাই বাইরে ছিলেন। ওই সময় ছাত্র সংগঠনের কনফারেন্স ডাকা হলো। আমি গোপনে পার্টি কমিটির কাছে চিঠি লিখলাম, তোমরা কনফারেন্স করো না। রাজবন্দী মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। দু-একমাস অপেক্ষা করো, আমরা সবাই বেরিয়ে আসার পর একসঙ্গে কনফারেন্স করব। কেননা আমরা প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, সব তো তখন কারাগারে। কিন্তু পার্টি সিদ্ধান্ত নিলো উল্টো। কনফারেন্সকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ প্যানেল, পাল্টা প্যানেল দিলো, মারামারি শুরু হয়ে গেল। কনফারেন্সের তৃতীয় দিনে, কামাল লোহানীসহ ছাত্র ইউনিয়নের এক্স সবাই মিলে দুই পক্ষকে ডেকে বললেন, এসব তোমরা কী করছো? তারা একটা মীমাংসার জন্যে দুই পক্ষকে নিয়ে বসলেন। ঠিক হলো, কমিটিতে একপক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট আরেকপক্ষ থেকে সেক্রেটারি থাকবে। আর কমিটির অর্ধেক থাকবে এ পক্ষের, অর্ধেক ও পক্ষের। জেলাগুলো থেকে যে যেরকমভাবে পাঠায়, সেটাই হবে। এরপর এটা সভায় পেশ করা হলো। হাউজ হাততালি দিয়ে সেটা পাশ করল। কিন্তু খবরটা যখন আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি নেতৃত্বের কাছে গেল, তারা বললেন, এটা কী করেছো? চীনপন্থীদের ঝেটিয়ে বিদায় করে দাও। পাবনার সাংবাদিক আবদুল মতিন, পাকিস্তান অবজারভারে ছিলেন, এখন মারা গেছেন, তার কাছে শুনেছি, তার বাসায় বসেই পার্টির সেই নেতা এই নির্দেশ দেন। এদিকে তখন তো ৫০০-৭০০ কাউন্সিলরের প্রায় সবাই চলে গেছেন। কিন্তু তারা খুঁজে খুঁজে নিজেদের পক্ষের নেতাদের কয়েকজনকে নিয়ে মধ্যরাতে ইকবাল হলের ছাদে বসে আরেকটি কমিটি করলেন। পরের দিন সব সংবাদপত্রে কামাল লোহানীদের উদ্যোগে গঠিত প্যানেলটির কথা ছাপা হলো। যেটিতে মেনন প্রেসিডেন্ট, মতিয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট, মানিক সেক্রেটারি ছিলেন। কেবল দৈনিক সংবাদে মধ্যরাতে নতুন করে নিউজ বসিয়ে ইকবাল হলের ছাদে গঠিত কমিটির নিউজটা দেয়া হলো। সংবাদ তখন পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল। এইভাবে পার্টিই কিন্তু চীনপন্থীদের বের করে দিতে ছাত্র ইউনিয়নকে ভাঙল।  

১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলনে প্রথম কারাবরণের সময় আপনি ঢাকা কারাগারের যে সেলে ছিলেন, বঙ্গবন্ধুও তখন একই সেলে ছিলেন। ওখানেই কি আপনাদের প্রথম পরিচয়? ওই সময়ের কথা একটু বলবেন কি?

হ্যাঁ, হ্যাঁ- একই সেলে ছিলেন। ... না, না, প্রথম পরিচয় নয়। পরিচয় হয় তার অনেক আগেই। গ্রেপ্তার হয়ে প্রথম সাত দিন আসলে আমি ছিলাম ক্যান্টনমেন্ট কারাগারে। তারপর ঢাকা কারাগারের ওই ২৬ নং সেলে। 

ওখানে আপনি কদিন ছিলেন?

মাসখানেক। তবে উনি তো তখন ন্যাশনাল লিডার, আর আমার তখন মাত্র কুড়ি বছর বয়স। আমাকে তিনি স্নেহ করতেন। আমাকে ফল খাওয়াতেন, ডেকে নিয়ে এটা-সেটা কথা বলতেন। তাজউদ্দীন ভাই, উনিও ছিলেন। উনিও আমাকে স্নেহ করতেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলাপ তখন ওইভাবে হয়নি। আমার মনে আছে, ওখানে শফিউদ্দিন আহমেদ বলে একজন সাংবাদিকও ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। তা দেখে বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন, ‘কী রে শফি, কী করছিস? ওকে পটানোর চেষ্টা করছিস? ও পটবে না, ও আমার।’ আমি তাঁর স্নেহভাজন ছিলাম, যদিও তাঁর দল করিনি কখনও।

আপনি তো মওলানা ভাসানীর অনুসারী। কিন্তু কখনও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি করেননি কেন? 

হ্যাঁ, তার অনুসারী ছিলাম। কিন্তু আমি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ারই চেষ্টা করেছি। কমিউনিস্ট পার্টি করার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড জীবন বেছে নিয়েছি, শ্রমিক আন্দোলন করতে শ্রমিক এলাকায় থেকেছি। আমি সরাসরি ন্যাপের রাজনীতি করতে চাইনি। ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টির একটা ওপেন প্ল্যাটফর্ম ছিল। আর আমিও মওলানা ভাসানীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছি, থেকেছি। একই রুমে, মানে ওনার ঘরে উনি চকিতে শুয়ে আছেন, আমি মাটিতে শুয়ে আছি- এমন সম্পর্ক। কিন্তু আমি ন্যাপ কখনও করিনি। মেনন করেছে, জাফর ভাই করেছে। আমি করিনি। কেন করিনি,-এর কোনো কারণও নেই।

আপনি শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছিলেন। ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই ভূখণ্ডে নতুন যে দ্বন্দ্ব সামনে চলে এলো, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটল, স্বাধীনতার প্রসঙ্গ উঠল, কমিউনিস্টরা তখন এসবের গুরুত্ব কতটা বুঝতে পেরেছিল? জাতীয় মুক্তি আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়ল কেন? মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বের স্থানটিই বা নিতে পারল না কেন? 

ব্যাপারটা বলি- বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দেওয়ার আগে পর্যন্ত কিন্তু স্বাধীনতার আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বামপন্থিদের ভূমিকাই ছিল প্রধান। মওলানা ভাসানীকে তো বামপন্থির মধ্যেই ধরতে হবে। তিনি নিজেও সমাজতন্ত্রের কথা বলতেন, তার দল ন্যাপের ৯৯ শতাংশই বামপন্থি ছিলেন।

উনি তো ইসলামি সমাজতন্ত্রের কথাও বলেছেন। 

ইসলামী সমাজতন্ত্রের কথা উনি পরে বলেছেন। তাও খুব কমই বলেছেন। উনি কিন্তু ১৯৪৮ সালে টাঙ্গাইল থেকে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু পরে তকে জোর করে সরিয়ে দেয়া হয়। তো তখন তিনি প্রাদেশিক পরিষদে বাজেট বক্তৃতায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলেছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এটি বলেছিলেন। তার পর আসেন ভাষা আন্দোলন,- সেখানে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিলে কমিউনিস্টরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। আবদুল মতিন, তোয়াহা,-সবাই, এরাই তো মুখ্য ছিলেন। এটা সংগঠিত করেছে কমিউনিস্ট পার্টি এবং সেই পার্টির সাদেক খান, শহীদুল্লাহ কায়সার এতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আরও একজন ছিলেন, তিনি পরবর্তী সময়ে আমার শিক্ষকও হয়েছিলেন,-মুকিত চৌধুরী, তিনি জেলেও গিয়েছিলেন। এরা সবাই কমিউনিস্ট পার্টির- আবদুল মতিন ভাই, গাজীউল হক-সবাই কমিউনিস্ট পার্টির। কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী একেবারে স্পষ্টভাবে বললেন , ‘আচ্ছালামু আলাইকুম।’ কিন্তু সেই সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা কী ছিল? তিনি অটোনমির বিরুদ্ধে ছিলেন। তিনি তখন বলেন, ৯৮ পার্সেন্ট অটোনমি অলরেডি অবটেইন্ড। তিনি সিয়াটো-সেন্টোর পক্ষে তো গেলেনই, অটোনমিরও বিরোধিতা করলেন। এমনকি সোহওয়ার্দী তো ভাষা আন্দোলনেরও বিরুদ্ধে ছিলেন। উনি ১৯৫২ সালের গুলিবর্ষণের পর উর্দু রাষ্ট্রভাষার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এখন বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারটা হলো, আমি দেখেছি এবং শুনেছিও, তিনি প্রথম থেকেই স্বাধীনতার কথা ভেবেছেন। ভাষা আন্দোলনের সময় আমি তো ছোট। পরবর্তীকালের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এই একই সারিতেই তো আমাদের বাসা, তখনও তিনি ছয় দফা দেননি, তখন তিনি একদিন আমাকে বলছিলেন, ‘এই বাসায় স্বাধীন বাংলার প্রথম কেবিনেট মিটিং হবে।’ তো আমি বললাম কী,-‘এই রাস্তায় কিন্তু আরেকটা বাড়ি আছে।’ দুষ্টুমি করে বললাম আরকি। তিনিও বললেন, ‘জানি, জানি, প্রথমে আমরা, তারপরে তোরা...। ’তা হলে এই পর্যন্ত ব্যাপারটা ছিল এরকম যে, বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত চিন্তার কথা আপনি সরিয়ে রাখলে আওয়ামী লীগ কিন্তু তখনও এটা নিয়ে কিছু ভাবেনি। ছয় দফা দেয়ার পর মানিক মিয়া তো ইত্তেফাকে এ নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। তার আগে ন্যাপ গঠন হলে সেটার নাম তিনি কী দিয়েছিলেন, জানেন? নেহেরু এইডেড পার্টি। সোহরাওয়ার্দী যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর জন্যে ছয় দফা দেয়া কঠিন হতো। তবে ব্যাপার হলো, মওলানা ভাসানী যখন বলছেন স্বায়ত্তশাসন, যখন বলছেন আচ্ছালামু আলাইকুম, তখনও কিন্তু পরিস্থিতি পরিণত হয়নি। ভাসানীর আরেকটি ব্যাপার ছিল, স্বাধীনতাকে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলন থেকে আলাদা করে দেখতেন না। এখানকার উঠতি বুর্জোয়ারা তখন ভাসানীকে কিন্তু পছন্দ করতেন না। কেননা তিনি বামপন্থীদের পছন্দ করতেন। এটা উঠতি ধনিকদের তখন ভীত করে ফেলে। এতে ইত্তেফাকেরও একটা রোল ছিল। বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দিয়েছিলেন লাহোরে বসে। মানিকরা তখন এতে খুব খেপে গিয়েছিল। নিউজটাকে তারা ব্ল্যাকআউট করেছিল। সেটা যদি তারা কনটিনিউ করতেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুকে ছয় দফা নিয়ে অগ্রসর হতে হয়তো আরও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতো। কিন্তুা বঙ্গবন্ধু যখন ছয়দফা দিলেন, স্বায়ত্তশাসনের কথা বললেন, তখন উঠতি বুর্জোয়ারাও কিন্তু সেটার পক্ষে এসে দাঁড়ালো। কারণ বঙ্গবন্ধু তো কমিউনিস্ট নন। ফলে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল। আর এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল ক্যারিশমা, ইমেজ, সাংগঠনিক দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়গুলো তো ছিলই। আরও অনেকেই কিন্তু তখন স্বাধীনতার কথা ভেবেছেন, বলেছেন; কিন্তু বললে তো হবে না, কারণ এত বড় বিশাল ব্যাপারটা নির্ভর করে কোন নেতা বলছেন, কীভাবে বলছেন, তার ওপরে। এইভাবে লিডারশিপটা বঙ্গবন্ধুর হাতে চলে গেল। এইখানে কমিউনিস্ট পার্টি আরেকটা ভুল করল। মস্কোপন্থী যে কমিউনিস্ট পার্টি, সেটি ১৯৬৮-এর পার্টি কংগ্রেসে স্বাধীনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো । এ বিষয়টা আমার সম্পাদিত একটি বই ‘মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীরা’তে বিস্তৃতভাবে আছে। ওই পার্টি কংগ্রেসে তারা যে দলিল উপস্থাপন করল, সেখানে ‘স্বাধীনতা প্রসঙ্গ’ একটি আলাদা অধ্যায়ই আছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার কথা বলা এখন সঠিক নয়, এটা বিপজ্জনক, অবিবেচনাপ্রসূত। এটাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। অন্যদিকে, চীনপন্থীরা তখন কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে গেলেও প্রত্যেক ভাগই বলল, ‘শ্রমিক কৃষক অস্ত্র ধরো, পূর্ববাংলা স্বাধীন করো।’ কিন্তু সত্যি সত্যি যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো, তখন চীনাপন্থীদের একটি অংশ চীনের কারণে সরে গেল। আমরা অবশ্য মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হলাম, ওদিকে মস্কোপন্থীরাও মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হলো। ভাঙন, দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য এসব মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে যুক্ত হতে দিলো না। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের ১৪ টা ঘাটি ছিল। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২০ হাজারের ওপরে। আমাদের শহীদের সংখ্যা ১০০-র বেশি। আমাদের সংগঠনের নাম ছিল ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি’।

তা হলে এই সমন্বয় কমিটি থেকেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী), ইউপিপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি হয়ে আপনি এখন সিপিবিতে যুক্ত আছেন। রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতায় চীনপন্থি রাজনীতি থেকে সিপিবিতে আসার এই বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বিষয়টাকে কিন্তু ওভাবে দেখলে হবে না। চীনপন্থি রাজনীতি, সিপিবি কোনোটিই আর আগের অবস্থানে নাই, সেই ওয়ার্কার্স পার্টিও আর আগের জায়গায় নাই। দেখেন, সোভিয়েতের যখন পতন হলো, সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিস্ট পার্টি যখন ব্যর্থ হলো, তখন সিপিবির তিন-চতুর্থাংশ সদস্য, প্রেসিডেন্ট-সাধারণ সম্পাদকসহ মার্ক্সবাদকে প্রত্যাখ্যান করল। কিন্তু পরবর্তীকালে ওই পরিস্থিতিকে ক্রিটিসাইজ করে সেলিমরা যে ভূমিকাটা নিল, সেটার কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা আছে। অন্যদিকে ওয়ার্কার্স পার্টিতে রাশেদ খান মেনন যে ভূমিকা নিলেন, পার্টির মার্কাও ছেড়ে দিলেন, তাতে আমার পক্ষে আর থাকা সম্ভব ছিল না। আমি সব সময়ই চেষ্টা করেছি সঠিক অবস্থানে থাকার। আমি চীনপন্থি হয়েছি সেই কারণে, আবার মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছি সেই কারণে চীনের তখনকার ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করে। এসব নিয়ে আমার বইও আছে, ১৯৭৮ সালে লেখা বুকলেট, একটা ‘সিপিবির বন্ধুদের প্রতি’; আরেকটা ‘চীনপন্থি বন্ধুদের প্রতি’। তখন অবশ্য তারা কেউই এসব কথাকে অবশ্য গুরুত্ব দেয়নি। 

বামপন্থিদের কয়েকটি দল এখন বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে হয় সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে, আরও কয়েকটি আবার বিরোধী বড় দল বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিপিবি-

না, সিপিবি কিন্তু এসব ধারায় নেই। আর কোনটিকে আমি রাজনৈতিক দল বলব? এক- যার ঐতিহ্য আছে, দুই- যার গণভিত্তি আছে, তিন- যার সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে। এসব বিষয় ছাড়া একটি পার্টি যাই করুক না কেন, সেটিকে পার্টি বলা যায় না। সিপিবি ভালো হোক, খারাপ হোক এর ঐতিহ্য আছে- গণভিত্তি আছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে। জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষেত্রেও তা বলা চলে। তারা সরকারের সঙ্গে আছে, সেটা অন্য প্রসঙ্গ। 

আপনার কি মনে হয়, বাম রাজনীতি এখন তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে?

না, এই মুহূর্তে বাম রাজনীতি একটা ভাটার মধ্যে পড়েছে, এটা সত্য। কিন্তু এটার পরিবর্তন ঘটবে, ঘটতে বাধ্য। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে লড়াই হবেই। স্পার্টাকার্স থেকে শুরু করে সূর্য সেন- সবাই করেছেন। কারণ মুক্তির সংগ্রাম মার্ক্সের আগেও ছিল, এখনও আছে। কাজেই আন্দোলনে আসতে মানুষ বাধ্য। আর সেটা করতে গেলে শেষ পর্যন্ত আপনাকে বামধারায় যেতেই হবে। আপনি কোনো বুর্জোয়া সংগঠনের কাছ থেকে এই সংগ্রাম প্রত্যাশা করতে পারেন না।

নতুন এই বিশ্বপরিস্থিতিতে মার্কসবাদের তাত্ত্বিকভাবে নতুন করে বিকাশের সম্ভাবনা কতটুকু? 

মার্কসবাদ কখনোই কোনো রিজিড বিষয় নয়। এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এটি একটি বিজ্ঞান, সবসময় বিকাশমান। এটা কোনো ডগমা নয়, কোনো ধর্ম নয়। মার্কসবাদ প্রতিনিয়ত বিকাশমান এবং একে সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে হবে। তবে তার মানে এই না যে, কেউ এ মতবাদের বেসিক ফান্ডামেন্টাল দিকগুলোকে অস্বীকার করবে। সৃজনশীল মার্কসবাদের নামে ক্রুশ্চেভরা বেসিক জায়গাগুলোকেই অস্বীকার করেছেন। আমি সময় পেলে এটা বিশ্লেষণ করে বলতে পারতাম, কিন্তু বোধকরি তার দরকার নেই।

আমাদের রাজনীতিকদের মধ্যে বলতে গেলে একমাত্র আপনিই সেই তারুণ্য থেকে শুরু করে এখনও লেখালেখিতে সম্পৃক্ত ও সক্রিয় রয়েছেন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। আপনি রাজনৈতিক সক্রিয়তার মধ্যে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ‘সাম্রাজ্যবাদের রূপরেখা’ নামের প্রথম বইটি লিখেছিলেন। বইটি লিখতে আপনি উৎসাহিত হয়েছিলেন কেন?

তখন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হতো- এই মস্কো-পিকিং বিতর্কের স্রোতে সাম্রাজ্যবাদটা কী, সেটা ছিল একটা বড় ব্যাপার। তখন আমি বিষয়টিকে সরলীকৃতভাবে তুলে ধরার প্রেরণা পাই এবং বইটি লিখে ফেলি। 

রাজনৈতিক বিষয়ের বাইরেও আপনি বিজ্ঞান নিয়ে লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখেছেন, লিখেছেন বাংলা সাহিত্যে প্রগতির ধারাকে নিয়ে। আর আপনার আত্মকথন ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ তো বহুল আলোচিত। রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পরও এমন সব বিষয় আপনাকে আকৃষ্ট করেছে কী কারণে? 

আমি তো আসলে রাস্তার লোক। তবে বাসায় থাকলে লিখি এই আর কী। পড়তে পড়তেই কিছু লেখার চিন্তা চলে এসেছে, এই। আমি যখন টঙ্গীতে শ্রমিক আন্দোলন করতাম, বস্তিতে থাকতাম, সেখানে কূপি জ্বালিয়ে অনেক রাতে বই পড়তাম। বস্তিতে লেখা হয়নি, কারাগারেও কখনো লিখিনি, কিন্তু পড়েছি প্রচুর, কারাগার আমাকে পড়ার ক্ষেত্রে খুব সাহায্য করেছে। ওইখানে আমার বাবাও আমাকে বই পাঠাতেন। তিনি সেখানে আমার জন্যে শেক্সপিয়রের বই পাঠিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, সেটার প্রথম দিকের সেই পাতাটা ছিঁড়ে গেছে যেখানে তিনি কিছু লিখে দিয়েছিলেন আর জেলখানার সিলছাপ্পড়ও ছিল। এইভাবে কারাগারে থাকার কারণেই আমার শেক্সপিয়রও পড়া হয়ে যায়। ওইখানে আমি বিভিন্ন অর্থনীতিবিদের বইও পড়েছি। 

এ বাসায় ঢোকার সময় দেখলাম, স্ট্যালিনের ছবি- তিনি তো সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সমালোচিতও-

ও-ও-ও স্ট্যালিন আমার প্রিয় নেতা। ... সমালোচনা, সেটা হতেই পারে। স্ট্যালিন উৎপল দত্তেরও খুব প্রিয়, আমাদের মামুনুর রশীদেরও প্রিয়। স্ট্যালিনের ওপরও কিন্তু আমি একটি সংকলন করেছি। স্ট্যালিনের ওপর ইন্ডিয়া থেকে সিপিএমও একটা বই অনুবাদ করেছে। ক্রুশ্চেভ লাইড। লেখকের নাম, গ্রোভার ফার। আমার কাছে প্রচুর বই আছে-সাড়ে তিন হাজার তো হবেই। কিন্তু আমি চোখে দেখি না। কোথায় যে কোনটা আছে, জানি না। কোনটা হারিয়ে গেছে তাও জানি না। এই যে আপনি সামনে বসে আছেন, আমি শুধু আবছা বুঝতে পারছি, নীলশার্ট পরা কেউ বসে আছে। 

নতুন কোনো বই লিখছেন?

নতুন বই- হ্যাঁ, লেখার পথে। এটা বিংশ শতাব্দীর সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের ইতিহাসের ডিসকোর্স আর কী। বইটির পাঁচটি পর্ব হবে। একটা ছেলে আসে, আমার কাছ থেকে ডিকটেশন নেয়, ইয়াং ছেলে, ৩০ বছর বয়স, খুব ভালো ছেলে। ও-ই খুব যত্ন করে ডিকটেশন নিয়ে লিখে দিচ্ছে। 

আমি আর আপনার বেশি সময় নেব না। শুধু একটা প্রসঙ্গ, আপনার মায়ের সম্পর্কে শুনেছি, তিনি বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। আপনার নিজের ওপর তার প্রভাব কতটুকু পড়েছে?

প্রথম ব্যাচ না। তবে সেখানকার ছাত্রী ছিলেন। আমার মায়ের জন্ম ১৯২৪ সালে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল করেছিলেন আরও আগে। আমার ওপর মা আর বাবা দুজনের প্রভাবই প্রচুর। মা কিন্তু আমার পার্টির মেম্বারদের, শ্রমিকদের এমনকি রাতের বেলায়ও রান্না করে খাওয়াতেন। তারা আমার খোঁজখবর রাখতেন, আমার সঙ্গে টঙ্গী গিয়ে দেখা পর্যন্ত করে এসেছেন। আমার বাসায় আমাকে ধরার জন্য ৫০ বারেরও বেশি রেইড হয়েছে। আমার বাবা আমাকে বাসার পেছন দিক দিয়ে বের করে দিয়েছেন। আমার বাসায় আন্ডারগ্রাউন্ডের লিডাররা এসে থেকেছেন। মা-বাবার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। 

জীবনের এই পর্বে এসে মৃত্যুচিন্তা আপনাকে কতটুকু তাড়িত করে? 

আমি তো জানিই, মানুষের জীবনে এটা অপরিহার্য। আর বললাম তো, আমার জীবনের প্রায় সবটাই এখন অতীত। তারপরও সামনের দিনের দিকে তাকানোটাই স্বাভাবিক। সবচেয়ে খারাপ লাগে, আমি কিছু করতে পারি না। একদম কিছুই করতে পারি না। এটা এত খারাপ লাগে! বাইরে বেরোতে পারি না, খবরের কাগজ পড়তে পারি না, টেলিভিশন দেখতে পারি না! 

তরুণদের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো কথা আছে কি? 

শুধু তরুণ কেন, আমি সবার উদ্দেশেই একটি কথা বলব। আমার নয়- এটা রবীন্দ্রনাথের কথা। তিনি তার মৃত্যুর আগে আগে একটা লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটাই তার সর্বশেষ লেখা, ‘সভ্যতার সংকট’। তো সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ আমি তরুণদের, সবাইকেই, বলব এ কথাটি মনে রাখতে। 

আপনাকে আর কষ্ট দেব না, রনো ভাই। অনেক ধন্যবাদ।

আপনি আসায় খুব ভালো লাগছে। আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা