মাইলেজ ভাতা জটিলতা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ২০:৫৭ পিএম
লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার, ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক, পরিচালকসহ ট্রেনের রানিং স্টাফদের পেনশন ও পারিতোষিক সুবিধা হিসাবের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মাইলেজের অর্থ যোগ করার দাবি জানিয়েছেন কর্মচারীরা। দাবি না মানলে রবিবার রাত ১২টার পর থেকে সারা দেশে রেল অচল করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন তাদে দৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
রানিং স্টাফরা জানান, রেলওয়েতে জনবল সঙ্কটের কারণে তারা মূল কর্মঘণ্টার বাইরে গিয়ে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা টানা কাজ করেন। অতিরিক্ত কাজের জন্য ব্রিটিশ শাসনামল থেকে তারা অতিরক্তি অর্থ বা মাইলেজ পান। এই সুবিধায় প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা পেয়ে আসছেন তারা। রানিং কর্মচারীদের অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে পেনশন নির্ধারণ করা হত। ১৬০ বছর ধরে চালু ছিল এ নিয়ম।
তাদের দাবি, ২০২০ সালে রেলওয়ের কোডিফাইড রুল অমান্য করে রানিং স্টাফদের মাইলেজ বেতনের অংশ থেকে টিএ খাতে নেওয়া হয়। এর পর ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের এক চিঠিতে রেলওয়ে রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা প্রদানে আপত্তি জানায়।
রেলমন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মাইলেজ সুবিধা বজায় রাখার জন্য অর্থ বিভাগকে প্রস্তাব দিলে ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে এ প্রস্তাব নাকজ করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ১০ এপ্রিল রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৩ এপ্রিল চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেয়। পরে রেলমন্ত্রী ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন, যা গত ১১ জুন রেলওয়ের মহাপরিচালক স্পষ্টিকরণ করে রানিং স্টাফদের মাইলেজে পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু আবারও গত ১৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় আপত্তি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, মোট পাঁচবার অর্থ মন্ত্রণালয় পেনশন ও পারিতোষিক সুবিধায় মাইলেজ যোগ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মন্ত্রী বার বার সময় নিয়েও বিষয়টি সমাধান করতে না পারায় আমরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করব।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২৩ আগস্ট আমরা রেলমন্ত্রীর সাথে বসেছিলাম কিন্তু ফলপ্রসূ কোনো আলোচনা হয়নি। এ বৈঠকে মন্ত্রী আরও সময় চেয়েছেন। এতে আমরা একমত নই। আমরা তিন বছর সময় দিলাম। এরপর এক মাস সময় দিলাম। আর কত সময় দেব। কমিটির সবাই বসে আন্দোলনে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পেনশন আইন করার পর এ সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। সবাই মূল বেতন অনুযায়ী পেনশন পাবে আর রানিং স্টাফরা রানিং অ্যালাউন্সসহ পাবে এতে আপত্তি ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং বার বার এ বিষয়ে কথা হয়েছে।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘তাদের দাবি যৌক্তিক। আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলেছি, রেলের যেহেতু কর্মচারীরা দীর্ঘদিন পেয়ে আসছে তাই তাদেরকে এ সুবিধা দিতে হবে। আমরা যখন নতুন নিয়োগ করব তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম থাকবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে কিন্তু লিখিত কিছু হইনি। রানিং স্টাফরা চায় আদেশ প্রত্যাহার। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে আছেন। অর্থসচিবও অবসরে গেছেন। নতুন অর্থসচিব আসছেন। আমি বলেছি, তোমরা ধৈর্য ধর। সমস্যা সমাধান হচ্ছে না কিনা দেখ।’