জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৩৮ এএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১১:০৩ এএম
ভাষাসৈনিক কয়েস উদ্দিন সরকার আর নেই। ফাইল ফটো
ভাষাসৈনিক কয়েস উদ্দিন সরকার আর নেই। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে জামালপুর শহরের গেইটপাড় এলাকায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যান প্রবীণ এই ভাষাসৈনিক। তাঁর বয়স পৌঁছেছিল শতবর্ষের কাছাকাছি।
মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শনিবার সকাল ১০টায় কয়েস উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বেলটিয়ায় তার জানাজা হবে। এরপর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১১টায় জামালপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।
তিনি জানান, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কয়েস উদ্দিনের মরদেহ পাঠানো হবে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অকুতোভয় এই বীরের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী, মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য তাঁর মরদেহ দান করা হবে।
ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত কয়েস উদ্দিন সরকার শোষণ-বঞ্চনা, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বহু গান রচনা করে গেছেন। নিজেই তাতে সুরারোপ করে গেয়ে বেড়াতেন। শহরের যেখানেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সভা চলুক না কেন, তিনি থাকতেন প্রথম কাতারে। গানের আবদার করলে মঞ্চে গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখতেন।
কয়েস উদ্দিন ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী চেতনায় বিশ্বাসী। তিনি ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন করেছেন। শৈশবেই বাবাকে হারান, তাই খুব বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি সাংসারিক অভাব-অনটনের কারণে। ১৯৫২ সালে জিন্নাহ যখন ঢাকার কার্জন হলে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষণা দেন, তখনই শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। কয়েস উদ্দিন সরকার যোগ দেন ভাষা আন্দোলনে। তিনি যাদের নেতৃত্বে জামালপুরে ভাষা আন্দোলন করেছিলেন তারা হলেন তৈয়ব আলী, তাছির মোক্তার, মোয়াজ্জেম উকিল, হায়দর আলী মল্লিক, নাসির সরকার প্রমুখ।
ভাষা আন্দোলন পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাসংগ্রামী হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। আইয়ুববিরোধী গান রচনা করার জন্য আইয়ুব খানের মার্শাল লয়ের সময় এক বছর জেল খাটেন কয়েস উদ্দিন।
অভাব-অনটনে জীবনযাপন করলেও নিজের নীতি-আদর্শ থেকে কখনও সরে আসেননি। দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় থাকলেও গ্রহণ করেননি কোনো সরকারি সুযোগসুবিধা। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিত্তবান বা প্রতিষ্ঠান তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে চাইলেও ফিরিয়ে দিয়েছেন বিনয়ের সঙ্গে।
কয়েস উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জামালপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।