সেলিম আহমেদ
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ০১:১২ এএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১০:৫৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুয়ায়ী, ‘বর্ষায় নাও আর হেমন্তে পাও’ ছাড়া জেবিবি উচ্চবিদ্যালয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। কারণ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ের অবস্থান হাওরের মধ্যে। বর্ষায় বিদ্যালয়টির চারদিকে থাকে অথৈ জল। শুকনো মৌসুমে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় কয়েক কিলোমিটারের ধু-ধু মাঠ। আশপাশের কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় এভাবেই। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে সব শিক্ষার্থী স্কুলে এলেও বর্ষার কয়েক মাস কমে যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। অনেক সময় বিদ্যালয় ডুবে যাওয়ায় বন্ধ থাকে শিক্ষা কার্যক্রম। যাতায়াতসহ নানা সংকটে বিদ্যালয়টির ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকরা বলেন, সবার তো আর নৌকা নেই, আবার নৌকা থাকলেও স্কুলে নিয়ে আসার জন্য পরিবারে লোক নেই। এ ছাড়া বর্ষায় বজ্রপাত ও নৌকাডুবিসহ নানা ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসে না। ফলে শিখন ঘাটতিতে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী। পাবলিক পরীক্ষায় পড়ে এর প্রভাব। ফলে ভালো রেজাল্ট করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া এই অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষাকৃত দরিদ্র হওয়ায় সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে লাগিয়ে দেয়।
এই চিত্র শুধু জেবিবি বিদ্যালয়ের নয়, হাওরাঞ্চলের প্রায় সব স্কুলেই এমনটা দেখা যায়। দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওর পারের একটি উপজেলা মৌলভীবাজারের জুড়ী। এই উপজেলার দক্ষিণ শাহপুরের হেলিম উদ্দিন এসএসসিতে ফেল করে ছেড়ে দেন লেখাপড়া। তিনি বলেন, গত বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ভয়াবহ বন্যার কারণে আমাদের বাড়িঘর ও স্কুল ডুবে গিয়েছিল। ঘরে পানি থাকায় কিছুদিন আশ্রয়কেন্দ্রেও ছিলাম। ফলে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে না পারায় এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করি। দ্বিতীয়বার সুযোগ না দিয়ে বাবা আমাকে দুবাই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৪৭টি উপজেলায় প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে হাওর অঞ্চল গঠিত। এ অঞ্চল দেশের মোট আয়তনের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ, যেখানে ২৬ হাজার গ্রামে থাকা মোট জনসংখ্যা দুই কোটিরও বেশি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে ছোট-বড় ৪১৪টি হাওর, জলাশয় ও জলাভূমি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জে হাওর রয়েছে ১৩৩টি, সিলেটে ৪৩টি, হবিগঞ্জে ৩৮টি, মৌলভীবাজারে ৪টি, নেত্রকোণায় ৮০টি, কিশোরগঞ্জে ১২২টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রয়েছে ৩টি।
হাকালুকিতে পানি বাড়লেই ডুবে যায় কুলাউড়ার ভুকশিমইল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ হাওরপারের শতাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফলে কয়েক মাস বন্ধ থাকে পাঠদান।
ভুকশিমইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক জিয়াউর রহমান জানান, তার ছেলে স্কুলটিতে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বর্ষায় পানি বেশি বাড়লে অনেক সময় স্কুল বন্ধ থাকে। আবার স্কুল খোলা থাকলেও তার ছেলেসহ অনেক শিক্ষার্থীকে নৌকা দিয়ে স্কুলে আসতে হয়। এখন অনেক পরিবারের নৌকা না থাকায় কিংবা স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার লোকের অভাবে অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বর্ষায় অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকাসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীরা বাড়িতেও পড়তে পারে না। বছরে প্রায় দুই-তিন মাস স্কুল ও বাড়িতে পড়ালেখা না করায় অনেক শিখন ঘাটতির মুখে পড়ে তারা। এই ঘাটতি মেটাতে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না সরকার কিংবা স্কুলের। বন্যাকবলিত এলাকায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য সরকারিভাবে যদি নৌকার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে সব শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারত।
এভাবেই নানা কারণে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি বছরই বাড়তে থাকে শিখন ঘাটতি ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এর প্রভাব পড়ে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও। যেমন- ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে খারাপ রেজাল্ট করে সিলেট বোর্ড। ওই বছর সিলেটে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ; যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ছিল ৯৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
এই ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই বছর বন্যার কারণে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীর বই ও নিজস্ব নোটখাতা পানিতে ভেসে যাওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ব্যাঘাত ঘটেছিল। তাই খারাপ ফল হয়েছিল।
শুধু পরীক্ষার ফল যে খারাপ হয়েছে তা নয়। দুই বছরের ব্যবধানে ওই বোর্ডে শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে ৩২ হাজার ৪৭৬ জন। অর্থাৎ ২০২১ সালে সিলেটে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৭শ জন। এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই এবার বসেছে এইচএসসি পরীক্ষায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ২২৪ জনে। এর মধ্যে হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই জেলায় এসএসসি পাস করে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ঝরে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। সুনামগঞ্জে ২০২১ সালে এসএসসি পাস করেছিল ২৫ হাজার ৩৪৩ জন। এবার এইচএসসিতে বসেছে ১৫ হাজার ৮৬১ জন। অর্থাৎ ঝরে পড়েছে ৯ হাজার ৪৮২ জন।
২০২১ সালে পরিচালিত জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক প্রতিবেদন ২০২২-এ প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, সাত বছর বা তারও বেশি বয়সিদের মধ্যে দেশের গড় সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬ শতাংশ; যা ২০১১ সালে পরিচালিত আদমশুমারি থেকে ২২.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি দেখায়। এর মধ্যে সবচেয়ে কম সাক্ষরতার হার পাঁচটি জেলার একটি সুনামগঞ্জ। জেলাটিতে সাক্ষরতার হার ৬৪.৭৭ শতাংশ।
ইউনিসেফের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, সুমামগঞ্জে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৩৭ শতাংশ। এ ছাড়াও চলতি বছরে প্রাথমিক শিক্ষায় সিলেট বিভাগ পিছিয়ে রয়েছে বলে উঠে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জরিপে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের করা ২০২২ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারিতে (এপিএসসি) বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। আর পিছিয়ে আছে সিলেট বিভাগ। পিছিয়ে থাকার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- এই বিভাগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেশি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষা প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বল্পতা এবং বিভাগের হাওর অঞ্চল ও চা-বাগানে প্রচুর শিশু কাজ করে।
জরিপে স্কোরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলা বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কোর ১০৯.৩, ঢাকায় ১০৫.৯, রংপুরে ১০২.৯, চট্টগ্রামে ১০২.৪, রাজশাহীতে ১০২.৩, বরিশালে ১০১.২, খুলনা বিভাগে ১০০.৮ এবং সিলেট বিভাগে ৯৮.৪। আবার ময়মনসিংহ বিভাগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলায় স্কোর ১১৪.৩, ঢাকায় ১১২.৬, রংপুরে ১১১.২, চট্টগ্রামে ১০৯.৯, বরিশালে ১০৯.২, খুলনা ও রাজশাহীতে ১০৯ এবং সিলেট বিভাগে ৯৬.৪। গণিত বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কোর ১১১.১, ঢাকায় ১০৬.৬, রংপুরে ১০৪.৭, রাজশাহীতে ১০৩.২, চট্টগ্রামে ১০৩.১, বরিশালে ১০২.৫, খুলনায় ১০০.৭ এবং সিলেট বিভাগে ৯৯.৮। একই বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কোর ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৯.৪, ঢাকায় ১১৫.৪, চট্টগ্রামে ১১৩.৪, রংপুরে ১১২.৭, রাজশাহীতে ১১২.৫, খুলনায় ১১১.৪, বরিশালে ১১০.৩ এবং সিলেট বিভাগে ১০৮.১।
হাওর অঞ্চলের একাধিক স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা বলেছেন, হাওরবেষ্টিত এলাকাগুলোর অধিকাংশ মানুষ এক ফসলের (বোরো ধানের) ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে বন্যায় বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেলে অনেক মানুষকে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হয়। অভাবের কারণে অনেকেই তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেষ করার আগেই কাজে লাগিয়ে দেন। এ ছাড়াও বর্ষায় স্কুল বন্ধ, অনুন্নত যোগাযোগের কারণে স্কুলে যেতে না পারায় শিখন ঘাটতি বাড়া, পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ ফল করা, অভিভাবকদের অসচেতনতা, পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবেই শিক্ষার্থীরা বেশি ঝরে পড়ে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো মাস্টারপ্ল্যান নেই।
তারা আরও বলেন, স্কুলে আসার জন্য বর্ষার সময় সরকারিভাবে বড় নৌকার ব্যবস্থা, আরও ঘন ঘন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি, শিক্ষকদের হাওর ভাতা, স্থানীয় আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে বার্ষিক শিক্ষা রুটিন তৈরি, মিড ডে মিল চালু, শিখন ঘাটতি মেটাতে উদ্যোগ নিলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে প্রায় ৩০ বছর শিক্ষকতা করেছেন অধ্যাপক নীলিমা চন্দ। গত দেড় বছর আগে অধ্যক্ষ থেকে অবসরে গেছেন তিনি। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে নীলিমা চন্দ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোনো কারণে যদি এই এলাকার কৃষক একটি ফসলে মার খায় তাহলে তাদের আর বিকল্প থাকে না। এই অর্থনৈতিক টানাপড়েনে তারা সন্তানকে স্কুল-কলেজে না পাঠিয়ে কাজে লাগিয়ে দেন।
সুনামগঞ্জের বাসিন্দা পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, স্কুলে যাওয়ার জন্য বড় নৌকার ব্যবস্থা করাসহ হাওরের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করতে হবে। গ্রীষ্মে যখন স্কুল ছুটি থাকে, তখন হাওরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে। তাদের জন্য বন্যা ও ধান কাটার মৌসুমে যে ছুটির প্রয়োজন হয়, সেটির ব্যবস্থা করা দরকার। শিক্ষকদের হাওর ভাতা, মিড ডে মিল চালু ও হাওরের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাতা দিলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে।
হাওরে আরও ঘন ঘন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন বলেও মনে করেন কাসমির রেজা। তিনি বলেন, এমনও আছে ৪-৫ গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দুই কিলোমিটারের মধ্যে স্কুল করা যাবে নাÑ এই নীতি হাওরের ক্ষেত্রে বাতিল করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘শিক্ষানীতিতে ছিল, স্কুল খোলা ও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ের হাতে দেওয়া। এটা কতটুকু বাস্তবায়ন হয় জানি না। তবে এটা করা উচিত।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, বাচ্চাদের স্কুলে ধরে রাখতে হলে সরকারিভাবে হাওরাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য বড় নৌকা বা অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য জায়গার মতো হাওরের বার্ষিক শিক্ষা রুটিন তৈরি করলে চলবে না। তারা গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় স্কুল খোলা রেখে বর্ষায় স্কুল ছুটি রাখবে। বন্যার কারণে ক্লাস বন্ধ থাকলে অন্য সময় বেশি ক্লাস নিয়ে সেই শিখন ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশির) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, হাওরাঞ্চলের জন্য আলাদা শিক্ষা রুটিন তৈরি করলে তাদের অনেক উপকার হবে ঠিকই, কিন্তু কিছু সমস্যাও আছে। যেমনÑ শিক্ষা রুটিন তৈরি করা হয় সারা দেশের কথা বিবেচনা করে। এর সঙ্গে পরীক্ষার বিষয়টি আছে। তবে হাওরের স্কুলগুলোর জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা উচিত। অনেক স্কুল স্থানীয়ভাবে করছে। হাওরের শিক্ষা নিয়ে আরও ভাবা উচিত, এতে ভালো কিছু বের হয়ে আসবে।