× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর)

এমপি হয়ে আওয়ামী লীগকে ভুলে গেছেন মেজর মান্নান!

আমানত উল্যাহ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৩ ০১:০১ এএম

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৬ পিএম

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য  মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। সংগৃহীত ছবি

রামগতি-কমলনগর আসন নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। মহাজোটের শরিক বিকল্পধারার ভোট ব্যাংক এ আসনে তেমন বড় নয়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। তবে গত সাড়ে চার বছর ধরে তার সঙ্গে সম্পর্ক আর মোটেও ভালো নেই আওয়ামী লীগের। বরং নীরব এক স্নায়ুযুদ্ধ চলছে দুই পক্ষের মধ্যে। 

২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে মেজর (অব.) মান্নান পরাজিত করেছিলেন বিএনপি জোটের সমর্থনপ্রাপ্ত আ স ম আব্দুর রবকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী বলছেন, তাদের দল, বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সমর্থকরাই বিপুল ভোটে মেজর মান্নানকে জিতিয়ে আনেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগকে ভুলে গেছেন। উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যেসব সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে, সেগুলোতে আওয়ামী লীগের সামনের সারির দু’চারজন নেতা ছাড়া আর কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়নি, কর্মসংস্থানমূলক কোনো সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়নি। করোনাকালীন দু’বছর তিনি বলতে গেলে এলাকার খবরই রাখেননি।

সম্প্রতি কমলনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে লক্ষ্মীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতা সফিক উদ্দিনও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘মেজর মান্নান এমপি হওয়ার পর থেকে ঢাকায় থেকে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য গোছানোর কাজে ব্যস্ত। তাকে কখনও স্থানীয় কার্যক্রমে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রমেও তাকে পাওয়া যায়নি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও তিনি কোনো যোগাযোগ রাখেননি।’ এসব কারণে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের উর্বর ভূমিতে আমরা কোনো বর্গাচাষি চাই না।’ 


যা বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, এ আসনে বিকল্পধারার সর্বোচ্চ ৬-৮ হাজার ভোট রয়েছে। মূলত নৌকার সমর্থকদের ভোটেই মেজর মান্নান এমপি হয়েছেন। কিন্তু এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কৌশলী সম্পর্ক রেখে নিজের দল বিকল্পধারাকে গোছাতে থাকেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব দেখা দেয়। তিনি কালেভদ্রে এলাকায় এলেও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং সেরে আবার ঢাকায় চলে যেতেন। যে কারণে তৃণমূলের ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষই সংশয়ে পড়ে যান, এ আসনে কোনো এমপি আছেন কি না।

এ প্রসঙ্গে কমলনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী বলেন, গত সাড়ে চার বছরে এমপি যুবলীগের একজন নেতাকর্মীর খোঁজও নেননি। ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছি আমরা। অথচ সংসদে গিয়ে তিনি তার নিজের এলাকা নোয়াখালীর সমস্যার কথা তুলে ধরেন! মেজর আব্দুল মান্নানকে ‘জনবিচ্ছিন্ন’ এমপি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি না হওয়ার কারণে এখানে টিআর কাবিখা প্রকল্প ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এলাকার উন্নয়নে দলীয় এমপির বিকল্প নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা মেজর মান্নানকে আবারও নৌকা প্রতীক দিলে আমরা কাজ করতে বাধ্য থাকব ঠিকই, তবে তাতে কোনো আন্তরিকতা থাকবে না। একজন নেতাও আন্তরিক হয়ে তার জন্য কাজ করবেন বলে মনে হয় না।’

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওনার সম্পর্ক ভালো নেই। তা ছাড়া উনি দলীয় এমপি না। তাই দূরত্ব থাকাটাই স্বাভাবিক।’ তবে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনোনয়ন পেলে মেজর মান্নানের হয়ে কাজ করবেন বলে জানান নিজাম উদ্দিন।

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি এ আসন থেকে এমপি হয়েছেন। এমপি হিসেবে তিনি সরকারি দান-অনুদানের তছরুপও করেননি। তবে দলীয় এমপি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার মান-অভিমান থাকাটাই স্বাভাবিক।’


যা বলছেন মেজর মান্নান

এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান। তিনি বলছেন, জোট থেকে এ আসনে এমপি হওয়ার পর এখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি নিবিড় সম্পর্ক ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এমনকি উন্নয়ন বরাদ্দ টিআর ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) বিতরণে প্রতিবারই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন মাস্টার ও বর্তমান সভাপতি নিজাম উদ্দিনকে মূল বরাদ্দের ৫০ ভাগ বুঝিয়ে দিয়েছেন। বাকি ৫০ ভাগ বরাদ্দ তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বণ্টন করেছেন।

মেজর (অব.) মান্নান বলেন, তবে এমপি হিসেবে তার পক্ষে এ আসনের তৃণমূলের সাত লাখ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অসম্ভব। যদিও এখানকার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তিনি সব সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই কাজ করেছেন। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক সব মিলিয়ে বেশ ভালো। একসঙ্গে রাজনীতি করতে গেলে কিছু সমস্যা হয়ে থাকে, এটাকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। এলাকার উন্নয়ন করতে আমার চেষ্টার কোনো কমতি নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা