কীটতত্ত্ববিদদের দাবি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১৩ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৩৭ পিএম
মশক নিধন অভিযান। ফাইল ছবি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন ব্যর্থ দাবি করে কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের যে ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যান দিচ্ছে সেটা খণ্ডিত। সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণের নামে তামাশা করছে।
শনিবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কেন এই ডেঙ্গু মহামারি? পরিত্রাণ কোন পথে?’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে কীটতত্ত্ববিদরা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ ভেক্টর ম্যানেজম্যান্ট গ্রুপ’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে মশা নিয়ন্ত্রণের নামে তামাশা চলছে। ব্যাঙ, হরিণ আর হাঁস দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। পৃথিবীর আর কোথাও এমনটা দেখা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মশা ও মানুষের সংযোগের বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। তা না হলে, ডেঙ্গু কমবে না। এ জন্য মশারি ব্যবহার করতে হবে, মশা নিয়ন্ত্রণের স্প্রে ব্যবহার, ফুলহাতা জামা ও প্যান্ট পরা, নিয়মিত বিরতিতে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়াসহ পূর্ণাঙ্গ মশা মারতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কীটতত্ত্ববিদের দায়িত্বের জায়গা থেকে আমরা কথা বলছি। ম্যান মসকিউটো এফেক্ট কমাতে হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ মশা ৩/৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। উড়ন্ত মশা মারার বিকল্প নেই। ফগিংয়ের মাধ্যমে ২০ শতাংশও মশা মারা সম্ভব নয়। ঢাকায় ডেঙ্গুতে ক্রোস ইনফেকশন হচ্ছে। ৯৫ শতাংশ এডাল্ট মশা না মারতে পারলে বর্তমান ব্রিডিং কমানো সম্ভব নয়।
বিটিআই (বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) নিয়ে এ কীটতত্ত্ববিদ বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বিটিআই নামে যা এনেছে তা পয়জন। কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনে এ বিটিআই আনা হয়েছে এবং তা প্রয়োগও করা হয়েছে। বিটিআইয়ের বিভিন্ন ক্লাসিফিকেশন আছে। যেটা উত্তর সিটি করপোরেশন এনেছে সেটা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সেটা পাবলিক হেলথের জন্য নয় কৃষির জন্য।
কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালের পর থেকে সারা বছরই কম বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। তার মানে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সারা বাংলাদেশকে নিয়ে একটি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম নেওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের এখানে পরীক্ষিত কোনো মশা কন্ট্রোল পদ্ধতি চালু নেই। মশা নিধনের ক্ষেত্রে আমরা ইনডিশিসনে ভুগি। আমরা কি ফগিং করব নাকি লার্ভিসাইড, নাকি টিকা আনব। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আছে কি না সেটা দেখতে হবে। আমরা কতদিনের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণ করব সেটার নির্ধারণ করব।
জনগণের বাড়ি বাড়ি যদি ইনসেকটিসাইড পৌঁছে দেওয়া যায় তবে আমরা জনগণের হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র দেইনি। দেওয়া হয়নি কোনো ট্রেনিং। কিন্তু বলছি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে আগে জনগণের হাতে মশা মারার অস্ত্র দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব মার্গুব মোরশেদ, কীটতত্ত্ববিদ ইন্দ্রাণী ধর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কীটতত্ত্ববিদ তাহমিনা আক্তার প্রমুখ।