× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ, উৎপাদনে জোর

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২২ ২২:২৪ পিএম

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২ ২২:৪০ পিএম

খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ, উৎপাদনে জোর

আসন্ন বৈশ্বিক মন্দায় টিকে থাকতে খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগ ধানই সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার। চাল সংগ্রহ ২ লাখ টন কম। গমের মজুদও কম ৮-৯ লাখ টন। এমন পরিস্থিতিতে যেকোন ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্দা মোকাবিলায় উৎপাদন বাড়ানোকে ‘অনিবার্য ও অপরিহার্য’ উপায় হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের খাদত্য পরিস্থিতির ওপর জোর দেন। ২০২৩ সালে বিশ্বে গুরুতর দুর্ভিক্ষ হতে পারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বরাত দিয়ে এমন আভাস দেন শেখ হাসিনা। আগামি বছরের দুর্ভিক্ষ বা অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টি এর আগেও আলোচনায় এনেছেন তিনি। 

একনেকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের একটা সুবিধা আছে যে আমাদের জমি অনেক উর্বর এবং যেখানেই বীজ বপন করা হয় সেখানেই কিছু উৎপন্ন হয়।’

অর্থনৈতিক মন্দা নিরসনে জনগণকে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচ না বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও গ্যাস ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বলেছেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে জনমনে এক ধরণের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে কী হবে-তা নিয়েও এক ধরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে দেশে ধান ও গমের মজুদ থাকায় আসন্ন বৈশি^ক মন্দায় বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। যুদ্ধের জন্য সারা পৃথিবীতে সমস্যা হলে আমরা তো আলাদা নয়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য।’

কৃষিমন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এই মুহূর্তে চালের মজুদ আছে প্রায় ১৬ লাখ টন। এছাড়া ৩৭ হাজার টন ধান ও ১ লাখ ৬৯ টন গমের মজুদও রয়েছে। তবে গমের মজুদ ১০-১২ লাখ টন থাকা উচিত ছিল। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তাই রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টন গম কেনার জন্য ইতিমধ্যে চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে আকস্মিক বন্যায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ধানের বিস্তীর্ণ মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বোরোর লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হয়নি। তাছাড়া বৈশ্বিক সংকটে বিভিন্ন নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুখ থুমড়ে পড়ে খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলা বাজারে ধান ও চালের দাম বেশি থাকায় সরকারের কাছে তা বিক্রি করতে চায়নি মিল মালিকরা। বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪১ শতাংশ ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। ২ লাখ টনের মতো ঘাটতি ছিলো সিদ্ধ চাল সংগ্রহেও। ফলে বিকল্প উপায়ে ভিয়েতনাম, ভারত ও মিয়ানমার থেকে সরকারিভাবে ৫ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। তাছাড়া ১০ লাখ টন চাল আমদানির জন্য অনুমতি দেওয়া হয় বেসরকারি আমদানিকারকদেরও। কিন্তু ভারতে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সরকার বেশি দামে চাল আমদানির কারণে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি বড় ধাক্কা খেয়েছে। আবার আগস্টের শুরুর দিকে ভারত থেকে চড়া দামে চাল কিনে কম দামে তা বিক্রি করতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। হঠাৎ চালের দাম বেড়ে গিয়ে আবার কমে যাওয়ায় অনেক আমদানিকারক গুদামের চাল বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে ধান-চাল নিয়ে এক ধরণের অস্থিরতা রয়েছে। এই অস্থিরতায় সরকারের চোখ আমন ধানে। চলতি বছর আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫৯ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমি। তবে ৫৬ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান লাগানো হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম জমিতে চাষ হলেও আমন ধান পাকার সময় সাধারণত তেমন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা কম থাকে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভরসা এখন আমন মৌসুমেই। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কার্তিক-আশ্বিন মাসে প্রায় ১৮ লাখ টন খুবই ভালো মজুদ বলে আমি মনে করি। কাজেই এ নিশ্চয়তা দিতে পারি, দেশে দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। আমনের ফসল উঠলে দুর্ভিক্ষ হবেনা।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাথাপিছু দৈনিক চাল খাওয়ার পরিমাণ ৪১৬ গ্রাম। সেই হিসাবে বার্ষিক জনপ্রতি চালের ব্যবহার ১৫২ কেজি। দেশে মোট বার্ষিক চালের চাহিদা সেক্ষেত্রে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টন। এই চাহিদার ৫৫ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে এবং বাকি ৪৫ শতাংশের যোগান হয় আমন থেকে। তবে চালকল মালিকদের দাবি, দেশে চালের চাহিদা ৩ কোটি ৪ লাখ টন। তবে কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, অন্য পণ্যেও দাম নাগালের মধ্যে না থাকলে তা চালের বাজারে প্রভাব ফেলে। তাই নিত্য পণ্যেও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সব পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় থাকতে তবে। 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আকতারুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধুমাত্র ফসলের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। কারণ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে ধান-চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক মন্দার ধাক্কা আমাদের দেশেও পড়বে। তবে ধাক্কাটি যেন সামলে নেওয়া যায় সেজন্য কাজ করছে সরকার। সরকারের উচিত বুঝেশুনে চলা, আবার জনগণেরও সচেতন হতে হবে। আমনের ফসল ঠিকমতো উঠে গেলে দুর্ভিক্ষ হয়ত এড়ানো যাবে।’  


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা