কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ০০:৪৭ এএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ০০:৪৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান এড কেইস। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই বাংলাদেশে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান এড কেইস। দেশটির হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের এই কংগ্রেসম্যান সপরিবারে শনিবার (১২ আগস্ট) বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে টার্কিস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।
চার দিনের সফরে এড কেইস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ সফরে এড কেইসের সঙ্গে যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান রিচার্ড ম্যাকরমিক। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, কংগ্রেসম্যান ম্যাকরমিকসহ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে শনিবার রাত সাড়ে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কংগ্রেসম্যানসহ প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফর শুরু হবে আজ রবিবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে। এদিন দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারা। এ ছাড়া বিকালে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বাসভবনে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হবেন দুই কংগ্রেসম্যান।
সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল সোমবার দুই কংগ্রেসম্যানসহ প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে এড কেইস ও রিচার্ড ম্যাকরমিকের। বৈঠকে তারা নির্বাচনসহ বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন।
মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অর্থ ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা দেখতে আসছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা অর্থায়নের অন্যতম বড় দাতা। আর এ কংগ্রেসম্যানরা যুক্তরাষ্ট্রের এ-সংক্রান্ত অর্থায়ন কমিটিতে রয়েছেন। তাই তারা দেখবেন তাদের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
এর আগে ৬ আগস্ট রাতে ঢাকা সফরে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন বিভাগের সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউ। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সফরের অংশ হিসেবে ঢাকায় আসেন তিনি। এরও আগে সফর করে গেছেন দেশটির দুই কূটনীতিক উজরা জেয়া ও ডোনাল্ড লু। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও কংগ্রেসম্যানদের সফরগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল।
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়ে গত ৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের কাছে চিঠি লেখেন দেশটির ৬ কংগ্রেস সদস্য। চিঠিতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা চেয়েছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা ১২ কংগ্রেসম্যানকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি এই ১২ কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সরাসরি যোগাযোগ করে বৈঠকেরও উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছিলেন, ১২ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠির বিষয়ে আমাদের রাষ্ট্রদূত স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ব্রিফ করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে চিঠির মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন। এরই মধ্যে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লেখা চিঠি ১২ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের দপ্তরে পাঠিয়েও দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।